‘মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তরা হতে পারবেন না জনপ্রতিনিধি’

Media

শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত নয়— মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠনের পর থেকেই কেউ জাতীয় নির্বাচন বা সরকারি দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে, এমন কঠিন বিধান যোগ হলো আইনের খাতে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এ `সেকশন ২৩’ সংযোজন করা হয়েছে”।

এর ফলে কেবল দণ্ডভোগী নয়, যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট জমা পড়ে, তিনি নির্বাচনে অংশ নাও করতে পারেন বা সরকারি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব—প্রধান উপদেষ্টার টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী—অচিরেই পাশ হওয়া “টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি ২০২৫” নিয়ে জানান, এটি দেশের টেলিকম খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ভয়েস কল এবং ডেটা পরিষেবা হবে আরও সাশ্রয়ী ও দক্ষ, পাশাপাশি নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা ও পর্যবেক্ষণ শৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটবে।

 

হাসিনা ও জয়কে দেশে ফেরাতে পুলিশের কাছে দুদকের আবেদন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরকে দুটি পৃথক চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রমে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, দুদকের তত্ত্বাবধানে রাজউকের পুঠখালি নিয়োগ সংক্রান্ত দুইটি দুর্নীতির মামলায় আদালত ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ‘অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট’ জারি করেছে। আর ন্যায়বিচারের স্বার্থে, বিদেশে পালিয়ে থাকা এই দুই জনকে দেশে ফেরানো জরুরি। এর অংশ হিসেবে ইন্টারপোল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুদকের মুখপাত্র অখতারুল ইসলাম জানান, “গবেষণার সময় দেখা গেছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাকে দেশে এনে আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” চিঠিতে আদালতের আদেশ, অভিযোগপত্র, চার্জশিট ও পূরণ করা 'রেড নোটিশ ফর্ম' সংযুক্ত আছে।

এছাড়া, দুদক ইতিমধ্যে ঠিকানা নির্ধারণ ও প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে—যা বিভিন্ন রাষ্ট্রে মিশনের মাধ্যমে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেকসহ সব আসামিকে খালাসের রায় বহাল

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার সাবেক বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবিরোধী সমাবেশে ঘটে যাওয়া গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগ বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় অপরিবর্তিত রাখে।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিকে খালাস দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেন।

২০০৪ সালের ওই হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং কয়েকশো মানুষ আহত হন। হামলার পর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সিআইডি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরও তদন্তের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।

রায়ের দেড় মাসের মধ্যেই ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়, যা বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চে চলছিল।

তবে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হয়। এরপর গত বছরের শেষদিকে হাইকোর্ট সব আসামির খালাস রায় দেন। আজ সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বহাল রেখে মামলার ইতি টানল।