জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে যোগ দিয়েছে। এতে জোটটির মোট শরিক দলের সংখ্যা দাঁড়াল দশটিতে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতসহ জোটভুক্ত আটটি দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও এনসিপির কোনো নেতা সেখানে ছিলেন না। তবে কর্নেল অলি আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আমির জানান, এনসিপির সঙ্গে অল্প সময় আগেই তাদের বৈঠক হয়েছে এবং সেই বৈঠকেই জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, “এনসিপি আজ রাতের মধ্যেই আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।”
ডা. শফিকুর রহমান এই জোটকে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সারা দেশের ৩০০ আসন নিয়ে আমরা বসে আলোচনা করেছি এবং নিজেদের মধ্যে আসন সমন্বয় করেছি। এখন আমরা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। শেষ সময়ে এসে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি দলকে আর যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত দুই দিনে দলটির শীর্ষ দুই নেতা তাসনিম জারা ও তাসনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩০ জন নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমরা যে ভিত্তিতে একত্রিত হয়েছি, তা মূলত একটি মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা। দেশের ৩০০ আসনে আলোচনার মাধ্যমে আমরা প্রার্থী নির্ধারণ করেছি। কয়েকটি আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত না হলেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তা চূড়ান্ত করা হবে।”
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদের হাতে দেড় মাসেরও কম সময় আছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই এবং ভোটের তারিখ যেন পরিবর্তন না হয়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এখনো সবার জন্য সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করি। এর ব্যতিক্রম হলে জাতি তা মেনে নেবে না।”
জামায়াত ও এনসিপি ছাড়াও এই জোটে রয়েছে-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং নেজামে ইসলাম পার্টি।
তবে কোন দল কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে-সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোনো বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
