আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ

Media

আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে একটি জরুরি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়। যেখানে এই সিদ্ধান্তটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার মূল কারণসমূহ:

জুলাই আন্দোলন ও সহিংসতা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সহিংসতায় শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটে, যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার: আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।

আইন সংশোধন: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী এনে এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতা:

আওয়ামী লীগের সকল ধরনের কার্যক্রম, অনলাইন ও অফলাইনে, যেমন: মিছিল, সভা, বক্তৃতা, অফিস খোলা, প্রচার ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দলটির অঙ্গসংগঠন ও সমর্থক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

আওয়ামী লীগ এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ঘোষণা করে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, "অবৈধ সরকারের সব সিদ্ধান্তই অবৈধ।"

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সোমবার এই বিষয়ে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবরোধ কর্মসূচি চালায়। তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এই আন্দোলন চালিয়ে যায়।

আন্দোলনের পটভূমি

শুক্রবার এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবরোধ শুরু করেন। এর আগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের পাশের মঞ্চ থেকে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সারা রাত আন্দোলনকারীরা শাহবাগে অবস্থান করেন এবং শনিবার সকালেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সকালে লোক সমাগম কিছুটা কম দেখা গেছে।

তিন দফা দাবি

আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন:

১/ আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

২/আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করতে হবে।

৩/ জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে।