বিএনপি এখন আর একটি রাজনৈতিক শক্তি নয়, বরং চাঁদাবাজদের দলে রূপ নিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমন অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন যে দলটি এখন মুজিববাদের নতুন ‘পাহারাদারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এসব ‘পাহারাদারদের’ প্রতিহত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সময় সোমবার পটুয়াখালীতে এনসিপির ‘জুলাই যাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন পদযাত্রার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলায় যাচ্ছি, তখন জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। এই গণজাগরণে ভীত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো—জনসমর্থনের মাধ্যমে।”
তিনি দাবি করেন, এনসিপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ‘স্টাবলিশমেন্ট’। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আমাদের দমন করতে যে ষড়যন্ত্র করেছিল, এখন সেই একই পদ্ধতিতে—সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের মাধ্যমে—আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, “ডিজিএফআইসহ দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা এখনো গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি।”
তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত শত্রু ভেতরে নয়, বরং দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাই এই বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে দেশের সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বারবার বিভাজন সৃষ্টি করে আমাদের দুর্বল করে রাখা হচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
উল্লেখ্য, এনসিপির ‘জুলাই যাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সভা ও পথসভা করছে, যার মাধ্যমে জনগণের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে তারা।
সোহাগ হত্যাকাণ্ডে তারেক রহমানকে জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে: ফখরুল
লালচাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের 'চরিত্র হননের অপচেষ্টা' করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ঘটনাকে ব্যবহার করে একটি চিহ্নিত মহল আমাদের দলের ভাবমূর্তি ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
মির্জা ফখরুল জানান, যাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, তারা দলীয়ভাবে সরাসরি ঘটনায় জড়িত কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। তবুও বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনায় সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আজীবন বহিষ্কারের মতো সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “দলীয়ভাবে এত কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরেও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি ও তার নেতৃত্বকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই ঘটনার পেছনে বিশেষ কোনো মহলের প্ররোচনা রয়েছে কি না এবং তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে এই ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কি না—সে বিষয়ে জনমনে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ৯ জুলাই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও এটি ১১ জুলাই, শুক্রবার জুমার নামাজের পর, অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনায় ‘পূর্বপরিকল্পিত প্রচারণার’ গন্ধ পাচ্ছেন বলেও ইঙ্গিত দেন।
