চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ রবিবার দুপুরেও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় আগামীকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় শনিবার রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন জোবরা গ্রামের একটি বাসায় ভাড়া থাকা এক ছাত্রী রাত ১১টার দিকে বাসায় প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দারোয়ান একপর্যায়ে ছাত্রীটিকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
পরবর্তীতে ছাত্রীটি তার কয়েকজন সহপাঠীকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দারোয়ানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এরপর ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলে রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত।
রবিবার সকাল থেকেই দুই নম্বর গেট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। স্থানীয় লোকজন সকাল থেকেই অবস্থান নেয় এলাকায়। কিছু সময় পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে সেখানে গেলে ফের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
রবিবার দুপুরের সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহত হন, সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, যা আগামীকাল রাত ১২টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রিত হওয়া কিংবা একসঙ্গে চলাফেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল, গণজমায়েত এবং বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও যেকোনো ধরনের দেশি অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাস ও জোবরা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধে প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
