প্লট দুর্নীতির ৩ মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

Media

পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহার, তথ্য গোপন এবং মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগে করা তিনটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়–কে একটি করে মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনজনেরই এক লাখ টাকা করে জরিমানা ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, আবেদনপত্র ছাড়াই এবং আইনগত এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

একজন দেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং গোপন করেছেন—এটা আদালতের কাছে “বিশ্বাসযোগ্য নয়”।

আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের সম্পদ কীভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আত্মসাত করা হতে পারে!”

রাজউক এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন এবং প্লট বরাদ্দে আরও স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে আদালত পৃথক কিছু সুপারিশও করে। বিচারক বলেন, ভবিষ্যতে উন্মুক্ত ডিজিটাল লটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ দিলে দুর্নীতি কমবে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকালে আদালত এলাকায় নেয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন ছিল।

কী শাস্তি পেলেন কারা?

দুদকের আইনজীবী মইনুল হাসান রায়ের পর জানান—

শেখ হাসিনা: তিন মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড। এক লাখ করে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে মোট ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: একটি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা জরিমানা।

সজীব ওয়াজেদ জয়: একটি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা জরিমানা।

মইনুল হাসান জানান, তিন মামলায় মোট ২১ জন আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। যারা তিন মামলায় একসঙ্গে অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁরা ক্রমিকভাবে আলাদা আলাদা সাজা ভোগ করবেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর এটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বড় সাজা। দুর্নীতির মামলায় এত উচ্চমাত্রার শাস্তি দেশে বিরল বলেও মন্তব্য করেন দুদকের আইনজীবী।

জীবন কারাদণ্ড (যাবজ্জীবন) না হওয়ায় আপিল করার প্রশ্নে দুদকের আইনজীবী বলেন—“কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

তিনি আরও বলেন—“এই রায় ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”