শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হলো বহুল আলোচিত জুলাই সনদ। জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই সনদ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এতে অংশ নেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদসহ চারটি বামপন্থী দল।
তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে সনদে স্বাক্ষর করেন। মত ও পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদকে সামনে এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে সংসদ ভবন এলাকায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আবহাওয়ার বৃষ্টির কারণে বিলম্বিত হয় অনুষ্ঠান, পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটির কারণে পূর্বঘোষিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনও সময়মতো শুরু করা সম্ভব হয়নি।
তবুও দীর্ঘ আলোচনার পর একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুলাই সনদ ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’-প্রধান উপদেষ্টা
জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এর মধ্য দিয়ে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতার জগতে এলাম।”
সনদ স্বাক্ষর পরবর্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস জানান, “আজকের দিনের মতো এমন একটি ঘটনা ঘটবে — আমরা কখনও ভাবতেও পারিনি।” ঐকমত্য কমিশনের যাত্রার শুরুতে কতটা ঐকমত্য গড়ে উঠবে তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেভাবে দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছে, তা দেশজুড়ে মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। শুধু দেখেই থেমে থাকেনি, সাধারণ মানুষ মনে মনে অংশ নিয়েছে, ঘরে ঘরে তর্ক-বিতর্কে যুক্ত হয়েছে।”
এই ঐকমত্য এবং সনদ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, তা “পৃথিবীর জন্যও একটি উদাহরণ” হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ইউনূস। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ ঐতিহাসিক মুহূর্ত জানাতে এই প্রক্রিয়ার বিবরণ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের মতো ঐক্যের সুর নিয়েই আমরা সামনে নির্বাচনমুখী হবো। সেই নির্বাচনও একদিন বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
