জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের মনোনয়ন ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এক কথা জানান তিনি।
ঢাকা-৯ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, “আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।
তিনি লিখেছেন, “একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সাথে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সাথে থাকছি না, তাই আমার সে সব কিছুই থাকবে না।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ঢাকা-৯ আসনের চার হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর একটি নির্ধারিত ফর্মে সংগ্রহ করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া আগামীকাল থেকেই শুরু করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাসনিম জারা দলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পরপরই ফেসবুকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অপেক্ষা করেননি বলেও মন্তব্য করেন আদিব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনসিপি থেকে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর পর দলটির ভেতরে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায়, “দল ও দলের বড় একটি অংশ ভুল পথে রয়েছে” এমন মন্তব্য করে পদত্যাগ করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক। তার আগে কেন্দ্রীয় নেতা অনিক রায়, তুহিন খান এবং অলিক মৃ-সহ আরও কয়েকজন নেতা দলটি ছাড়েন।
সব মিলিয়ে তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এনসিপির ভেতরের চলমান সংকট ও ভাঙনের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
