বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৬ মে) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ অধ্যাদেশে আগের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৯টি বিতর্কিত ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা, জাতীয় প্রতীকসমূহ নিয়ে কথিত ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ মন্তব্যের শাস্তির বিধান এবং মানহানি ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে মামলা করার সুযোগ—যেগুলোর ফলে বহু সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব মামলাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা।
নতুন আইনে নারী ও শিশুর প্রতি সাইবার সহিংসতা, যৌন হয়রানি, এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো অপরাধকে শাস্তিযোগ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এ ধরনের মামলায় যাতে হয়রানি না হয়, সে জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে বিচারককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কনটেন্ট অপসারণের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে এবং জনগণকে তা জানাতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া আইন উপদেষ্টা আরও জানান, খসড়া আইনটি ২৫ বার পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন আইনি যাচাই শেষে অধ্যাদেশটি কার্যকর হবে।
সংস্কৃতি উপদেষ্টাকে প্রশ্নের জেরে ৩ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করার জেরে দুটি টেলিভিশন মিডিয়ার দুজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনার জেরে আরেকটি চ্যানেল একজন সাংবাদিককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।
এসব টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে একটি এটিএন বাংলা। ওই চ্যানেলটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সোমবার সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলনে তাদের রিপোর্টারের প্রশ্নের বিষয়টিতে তারা বিব্রত।
