মাইলস্টোনের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩১, শিক্ষা সচিব প্রত্যাহার

Media

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করে।

সোমবার দুপুরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় বিমানটি কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ মিশনে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, প্রশাসনিক ভবন এবং আশপাশের কয়েকটি ঘর ও স্থাপনা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হতাহত হন, যাদের মধ্যে অনেকেই ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ এবং বিজিবির উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিএমএইচ এবং বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে মঙ্গলবারকে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং মসজিদ-মন্দির-গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

বিসিবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও শ্রদ্ধা জানিয়েছে নিহতদের প্রতি। দুর্ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ জানতে বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে, নিহত পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামকে নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন জনবহুল এলাকা এড়িয়ে বিমানটিকে খোলা জায়গায় অবতরণ করাতে। তবে তা সম্ভব না হওয়ায় বড় ধরণের প্রাণহানি হয়। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন স্কুল স্টাফ এবং বাকিরা স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার পর উত্তরার ওই এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। স্কুলটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় বিমান ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনায় আরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে ওড়ার অনুমতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে প্রত্যাহার

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকার সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভে নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা সচিবালয়ের মূল ফটক

অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। বেলা ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারশেল ছোড়ে। ওই সময় সচিবালয় এলাকা কেঁপে ওঠে সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দে। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ, ঘটে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও।

পরিস্থিতির চাপে পড়েই শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়, কেউ অবস্থান নেয় শিক্ষাভবন সংলগ্ন রাস্তায়, কেউ জিরো পয়েন্টে। আন্দোলনে আহত অন্তত ৩০ জনকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, এই সহিংসতার পুরো দায় সরকারের ওপর বর্তায়, এবং তারা সিদ্দিক জুবাইরের প্রত্যাহারকে তাদের আন্দোলনের আংশিক সফলতা হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনার পর ঢাকার কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য। আন্দোলন পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নজরে সবার।