যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নতুন শুল্ক নীতির আওতায় শুধু বাংলাদেশই নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস, মালয়েশিয়া, তিউনিসিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং সার্বিয়াসহ মোট ১৪টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প এই শুল্ক কার্যকরের সময় কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছেন। চূড়ান্তভাবে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে না পৌঁছাতে পারলে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ট্রাম্প এসব দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে চিঠিও পাঠাচ্ছেন এবং নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে সেগুলো প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের পর থেকে বাংলাদেশি যেকোনো পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে, যা বর্তমানে চালু খাতভিত্তিক শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে অন্য দেশের মাধ্যমে পণ্য গেলেও একই হারে শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
চিঠিতে তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি এখনো সমাধানের পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যদি যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি উৎপাদন শুরু করে, তাহলে তাদের পণ্যের ওপর নতুন কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, যদি বাংলাদেশ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি করে, তাহলে সেই হার নতুন ঘোষিত ৩৫ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও বেড়ে যাবে।
চিঠির শেষভাগে ট্রাম্প বলেন, যদি বাংলাদেশ তাদের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করতে চায় এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধাসহ অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করে, তাহলে তিনি এই সিদ্ধান্তের কিছু অংশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং দেশটির শিল্প ও উৎপাদন খাতকে পুনর্জীবিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন নীতির পথে হাঁটছে।
গত এপ্রিলেই তিনি বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেখানে আগে ১৫ শতাংশ শুল্কে দেশগুলো পণ্য পাঠাতে পারত। পরে সেটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয় এবং দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। এই সময়সীমার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন ট্রাম্প আবারও নতুন হারে শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন।
এদিকে বাংলাদেশের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে এই শুল্ক ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় উল্লেখ আছে, মিয়ানমার ও লাওসের পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, সার্বিয়া ও বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়া ও তিউনিসিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে আগে ঘোষিত ২৫ শতাংশ শুল্কের সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে এবং ১ আগস্ট থেকে এসব দেশের জন্যও শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
