‘শেখ মুজিবসহ চার নেতাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়নি’

Media

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, মো. মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান—বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত থাকবেন।

শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, মো. মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানসহ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল হয়েছে—এমন সংবাদকে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

মঙ্গলবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে জামুকা আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করে।

ফারুক ই আজম বলেন, ‘মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে। এটি ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মুজিবনগর সরকারে যারা ছিলেন, তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবে। যারা সশস্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যারা পরিচালনা করেছে, তারা মুক্তিযোদ্ধা।’

তিনি জানান, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফারুক ই আজম বলেন, ‘ওই সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে এবং দেশের অভ্যন্তরে যারা সহযোগিতা করেছেন, কাজ করেছেন, যারা সশস্ত্র ছিলেন না, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। তারা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হবেন।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা ছিল সেটাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৮ ও ২০২২ সালে এটি পরিবর্তন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী—উভয়েরই সম্মান, মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা একই থাকবে।

সুতরাং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিলের খবরটি সঠিক নয়। তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বহাল রয়েছে।

ভারত থেকে পুশ-ইন ঠেকানো ফিজিক্যালি সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে নাগরিকদের ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) ঘটনা ফিজিক্যালি ঠেকানো সম্ভব নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক চিঠি আদান-প্রদান চলছে এবং বাংলাদেশ শিগগিরই আরেকটি চিঠি পাঠাবে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পুশ-ইন হচ্ছে, ফিজিক্যালি এটি ঠেকানো সম্ভব নয়। এটা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের চিঠি আদান-প্রদান হচ্ছে। আমরা আজকে বা আগামীকাল আরেকটা চিঠি দেব এ বিষয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলছি, এটি যাতে নিয়ম অনুযায়ী হয়। তারা কিছু ক্ষেত্রে বলেছে, অনেক কেস (বিষয়) আটকে রয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো বাংলাদেশ করছে না। যাচাই করে দেখেছি, খুব দীর্ঘদিনের তালিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটাও দেখেছি যে ভারতের তালিকা অনুযায়ী যাচাই করে অনেককে ফেরত নেওয়া হয়েছে। কাজেই দুপক্ষের বক্তব্য থাকতে পারে।’

উপদেষ্টা জানান, কনস্যুলার সংলাপের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কনস্যুলার ইস্যুগুলো নিয়ে একটা মেকানিজম আছে, সেটাকে ব্যবহার করে এ জিনিসটাকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার। আমরা চাই, এটি যেন নিয়মিত পদ্ধতির মধ্যে ঘটে। নিয়মের বাইরে যেন না যায়।’