ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ। শনিবার দুপুর ২টায় মূল অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে সমাবেশ এলাকা।
‘দাঁড়িপাল্লা’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করছেন নেতাকর্মীরা। অনেকের মাথায় নিজ জেলার নামসংবলিত ব্যান্ড, কপালে জামায়াতের লোগো এবং গায়ে সাদা গেঞ্জি বা পাঞ্জাবি দেখা গেছে। দলীয় আবেগ ও উচ্ছ্বাসে তারা উদ্দীপ্ত।
সকাল ১০টা থেকে কুরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক পর্ব দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের সূচনা কার্যক্রম। ইসলামী সংগীতশিল্পী সাইফুল্লাহ মানসুর মাইকে অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দেন। পুরো সমাবেশের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় মাঠে রয়েছেন প্রায় ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক, যারা ২০টি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন।
সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্দির গেট দিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে বরণ করে নেন, পরে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় তিনি মঞ্চে ওঠেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলটির পক্ষ থেকে এই সমাবেশে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও রাজনৈতিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরার কথা রয়েছে।
জাতীয় এই সমাবেশে দেশের সব কার্যকর রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের সমাবেশ ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কড়া নিরাপত্তা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ। দলটির দাবি, স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ এ জনসমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবে।
সমাবেশ ঘিরে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ৪ হাজার সদস্যসহ মোট ১২ হাজারের বেশি পুলিশ। সঙ্গে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিবি, সিসি ক্যামেরায় চলছে সার্বক্ষণিক মনিটরিং।
এছাড়াও সমাবেশস্থলে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তায় থাকছে র্যাবের কয়েক হাজার সদস্য। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে তারা। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দল বা গোষ্ঠী যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, “জামায়াতের সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জামায়াত নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানিয়েছেন, উদ্যান ও আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম ও সিভিল পোশাকে কাজ করছেন পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য। বাইরে থেকে আগত যানবাহনের জন্য নির্ধারিত রুট ও পার্কিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
জামায়াতের এই সমাবেশে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।
