‘বাংলাদেশের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ৬০ হাজার সদস্য মাঠে থাকবে’

Media

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ৬০ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৫ আগস্ট থেকে সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন এবং ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতাও পেয়েছেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘‘নির্বাচন চলাকালে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। আমরা আশাবাদী, তারা শক্ত ভূমিকা রাখবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।’’

প্রধান উপদেষ্টা এর আগে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনও গোয়েন্দা দুর্বলতা না থাকে।

পুলিশের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। এ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, “আইজিপি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাসে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”

এছাড়া ভুয়া তথ্য বা গুজব নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। শফিকুল আলম বলেন, “নির্বাচনের আগে এবং চলাকালে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য একটি জাতীয় তথ্য কেন্দ্র (ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার) গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে এসব মিসইনফরমেশন শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করা হবে।”

 

মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় ৩৩ দগ্ধ এখনও বার্ন ইনস্টিটিউটে

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ ৩৩ জন রোগী এখনও বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার বিকেলে ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন।

তিনি জানান, “বর্তমানে ইনস্টিটিউটে ভর্তি ৩৩ জনের মধ্যে ২৭ জনই শিশু। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন (ক্রিটিক্যাল) এবং আরও তিনজন গুরুতর (সিভিয়ার), যাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে আরও নয়জন রয়েছে। বাকি রোগীরা সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।”

পরিচালক জানান, ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের তিনজন রোগীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাদের বাসায় পাঠানো যেতে পারে। তবে পরিবার ও আবহাওয়ার অনুরূপ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরবর্তী ড্রেসিংয়ের পরই ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

চলতি সপ্তাহে ধাপে ধাপে আরও কিছু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া, দগ্ধদের চিকিৎসা সহায়তায় বিদেশ থেকে আগত চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন অথবা ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলেও জানান ডা. নাসির উদ্দিন।