বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সচিবালয়ের ভেতরে মিছিল, সমাবেশ বা গণজমায়েত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। সন্ধ্যা ৬টার পর যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দাপ্তরিক প্রয়োজনে সচিবালয়ে অবস্থান করতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে কোনো ধরনের অননুমোদিত সভা, সমাবেশ, বৈঠক বা কোনো পেশাগত সংগঠন ও সমিতির কার্যক্রম আয়োজন করা যাবে না।
সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্যান্য ছুটির দিনেও কেউ যদি দাপ্তরিক প্রয়োজনে সচিবালয়ে প্রবেশ বা অবস্থান করতে চান, তবে তাকে আগেভাগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে।
সচিবালয়ে কর্মরত সবাইকে সচিবালয়ে প্রবেশকালে নির্ধারিত প্রবেশপত্র দৃশ্যমান রাখতে হবে। সচিবালয়ের কোনো ভবন বা প্রাঙ্গণে লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টানানো বা ফেস্টুন ঝুলানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
সচিবালয়ে প্রবেশের সময় গাড়ি ও ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে এই তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এই নির্দেশনাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সারজিসের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা বিএনপি নেতার
গাজীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডে বিএনপির সম্পৃক্ততা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির এক নেতা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও গণমাধ্যমে সারজিস আলম বিএনপিকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। বাদী দাবি করেছেন, এসব বক্তব্যের ফলে বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
আদালত অভিযোগের শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করেন এবং তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হন স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন। ঘটনার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব ও রাজনৈতিক দলগুলোকে জড়িয়ে মন্তব্য।
তবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, তুহিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বিএনপি নেতারা বলছেন, এ ঘটনায় দলকে জড়ানোর চেষ্টা একটি সাজানো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যা সুষ্ঠু তদন্তেই প্রমাণিত হবে।
