সিঙ্গাপুরের কাছে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

Media

জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। হোম ম্যাচের আবহ, গ্যালারিভর্তি দর্শক, আর ম্যাচপূর্ব উল্লাস—সব মিলিয়ে পরিবেশ ছিল রোমাঞ্চকর। কিন্তু হাভিয়ের কাবরেরার দলের পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলো।

স্টেডিয়ামের গেট খোলার কথা ছিল দুপুর ২টায়। কিন্তু তারও আগে জড়ো হয় হাজারো দর্শক। স্মোক ফ্লেয়ারে রঙিন হয়ে ওঠে স্টেডিয়ামের চারপাশ। কিক অফের সময় চারদিক গর্জে উঠে করতালি আর হর্ষধ্বনিতে। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই জোশ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ দল।

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। উল্টো ৪৫তম মিনিটে উই-ইয়াংয়ের দুর্দান্ত সাইড ভলিতে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। বিরতির আগে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ায় অতিথিরা। ৫৮ মিনিটে ফান্দির গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। যদিও ৬৭ মিনিটে রাকিব হোসেন একটি গোল শোধ দেন হামজা চৌধুরীর চমৎকার পাস থেকে। এরপর একের পর এক আক্রমণে উঠে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

ম্যাচে উল্লেখযোগ্য ছিল কাবরেরার একাদশে পরিবর্তন। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে বেঞ্চে রেখে একাদশে অভিষেক হয় কানাডা-প্রবাসী মিডফিল্ডার শোমিত সোমের। সোহেল রানার পরিবর্তে হৃদয় এবং লেফটব্যাক তাজ উদ্দিনের বদলে খেলেন শাকিল আহাদ তপু।

ম্যাচে একাধিক সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ—ফাহামিদুল, ইমন, ফাহিম—সবার পায়েই গোলের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। যোগ করা সময়ে তারিকের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসা কিংবা ফাহিমের পেনাল্টির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া—সবই যেন হতাশার চূড়ান্ত রূপ।

এই পরাজয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন সবার নিচে। সমান পয়েন্ট ভারতেরও। হংকং ও সিঙ্গাপুরের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট করে।

১০ বছর পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আবার মুখোমুখি হয়ে জয়ের বদলে হারের স্বাদই পেল বাংলাদেশ। জমকালো আবহ, ভরা গ্যালারি, এবং এতসব প্রত্যাশার পর এমন পরিণতি সমর্থকদের জন্য হতাশাজনক।

দিনের অপর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে হংকংয়ের পেনাল্টি গোলে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে ভারত। এই পরাজয়ের পর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য বাকি ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে আরও চ্যালেঞ্জিং।