মাইলস্টোন স্কুলে প্রবেশে কড়াকড়ি, গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা

Media

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রবেশে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক এখন তালাবদ্ধ। গেটের বাইরে ভিড় করছেন বহু উৎসুক মানুষ। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত যেখানে নিরাপত্তা ছিল তুলনামূলক শিথিল, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সীমানার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, কলেজ প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা মূল ফটকের বাইরেই থেকে খবর সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, বুধবার সকালে জানা গেছে, মর্মান্তিক বিমানবিধ্বস্ত ঘটনায় আহত, নিহত ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণের জন্য একটি ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

সিএমএইচের মর্গে ৬ অজ্ঞাত লাশ, ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার পর এখনও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এর মর্গে রয়েছে ছয়টি অশনাক্ত মরদেহ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে মরদেহগুলো থেকে ইতোমধ্যে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুতই ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-এর ল্যাবরেটরিতে নমুনাগুলোর বিশ্লেষণ শুরু হবে।

যেসব পরিবার এখনও তাদের সন্তান বা স্বজনকে খুঁজে পাচ্ছেন না, তাদেরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে, যেন দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছে, যা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন দ্রুত নমুনা দিয়ে সহযোগিতা করেন, যাতে স্বজনদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায় এবং যথাযথভাবে দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

 

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে

গত সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে আহত, নিহত ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নাম–ঠিকানাসহ প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন:

উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম

প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার

কো-অর্ডিনেটর লুৎফুন্নেসা লোপা

অভিভাবক প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মোল্লা

দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ বিন জিয়াউর রহমান ও মো. ভাসনিম ভূঁইয়া প্রতিক

কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে তালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে দুঃখজনক এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।