বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি না মানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ‘যমুনা’র দিকে রওনা দেন। তবে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ তাদের পথ আটকে দিলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছোড়ে তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড।
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা দুপুর ১টা পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় তারা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরমুখী যাত্রা শুরু করেন।
দুপুর দেড়টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের আটকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় রায়ট পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
অন্যদিকে, আন্দোলনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেসুর রহমান। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বুয়েট শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের প্রয়োজন নেই। তারা চাইলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাদের দাবি জানাতে পারতেন।”
তিনি আরও বলেন, “এখনও পর্যন্ত সরকারের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। প্রস্তাব এলে তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পিএসসি একত্রে বসে আলোচনা করে সমাধান করতে পারবে।”
সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিচক্ষণতার পরিচয় নয়’ বলেও মন্তব্য করেন এই সিনিয়র সচিব।
উল্লেখ্য, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো—
১. বিসিএস-এ ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডার চালু,
২. প্রকৌশল পেশায় ইঞ্জিনিয়ারদের মান-সম্মত পদ নিশ্চিত করা,
৩. অন্যান্য প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রকৌশলীদের উপযুক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা।
ভারতীতের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর
ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন, মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করা প্রতিটি ভারতীয় পণ্যের ওপর আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এতে ভারতের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এমন পরিস্থিতিতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিই পারে এ সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ দেখাতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শুল্ক আরোপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলবে।
