জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলামের রায় বাতিল, মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস

Media

ছবি: এটিএম আজহারুল ইসলাম

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার আপিল সর্বসম্মতভাবে মঞ্জুর করে পূর্বের রায় বাতিল করেছেন। এই রায়ের ফলে আজহারুল ইসলাম খালাস পেয়েছেন এবং তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

এটিএম আজহারুল ইসলাম ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল। রংপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে কারাদণ্ড প্রদান করে।

২০১৫ সালে তিনি আপিল করেন, যা ২০১৯ সালে আংশিকভাবে বহাল থাকে। পরে ২০২০ সালে রিভিউ আবেদন করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার খালাসের রায় প্রদান করে।

এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি মাইলফলক, কারণ এটি প্রথমবারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি আপিল বিভাগের রায়ে খালাস পেলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, পূর্বের রায়ে বিচারিক ত্রুটি ছিল এবং যথাযথ প্রমাণের অভাবে আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং এটিকে "সত্যের বিজয়" হিসেবে অভিহিত করেন।

কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ আটক

কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও তার সহযোগী মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কালীশংকরপুর এলাকার সোনার বাংলা মসজিদের পাশে মীর মহিউদ্দিনের তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধ জগতের আলোচিত নাম সুব্রত বাইন। তিনি মগবাজারের বিশাল সেন্টার ঘিরে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন এবং 'বিশালের সুব্রত' নামে পরিচিত ছিলেন। ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে।

মোল্লা মাসুদ ঢাকার মতিঝিল ও গোপীবাগ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি সুব্রত বাইনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে, যার মধ্যে সাবেক সাংসদ কামাল মজুমদারের ভাগনে মামুন হত্যা, পুরান ঢাকায় মুরগি মিলন হত্যা, এবং খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার উল্লেখযোগ্য। তার নামেও ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বিস্তারিত তথ্য পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।