নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী

Media

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে পুনরায় নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। স্থানীয় সময় রবিবার এই নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দলটির নিবন্ধন পুনর্বহাল করতে বলা হয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দলটির নিবন্ধন পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।

আদালতের রায় অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা' ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ইসির আইনজীবী আদালতকে জানান, দলটির নিবন্ধন পুনর্বহাল হলে প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

এই রায়ের ফলে জামায়াতে ইসলামী আবারও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এ নিয়ে দলটির আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘এই রায় দেশের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

নিবন্ধন পুনর্বহালের পর নির্বাচন কমিশন দলটির প্রতীক নির্ধারণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। এছাড়া, দলটি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারবে।

 

শেখ হাসিনাকে 'নির্দেশদাতা' উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'জুলাই গণহত্যার' প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এই অভিযোগ দাখিল করেন।

 এই মামলায় আরও দুই অভিযুক্ত হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হন। এই ঘটনার জন্য শেখ হাসিনাকে প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নির্বিচারে হত্যার নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উস্কানিসহ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শুনানির সময় আদালত কক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং বিচার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আদালত আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এই মামলার রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।