শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড, চৌধুরী মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড

Media

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান দমন অভিযানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অপর আসামি, সেই সময়ের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা প্রায় দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা দেশপ্রেমিক নেত্রী, তবে ১৫ মাস আগে ওই আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর পর তিনি ভারতে পালিয়ে আছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যাকে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো।

এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং সরকার গঠন করেছিল। এর আগে এই ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির এক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

রায়ের ঘোষণা ও আদালত সংক্রান্ত তথ্য

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে তার বিয়ে বার্ষিকীর দিনেই। তিনি ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

কারাগারে থাকা মামুনকে এই দিনে রায়ের জন্য আদালতে হাজির করা হয় এবং রায়ের পর তাকে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ ও সাজা

মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল:

১. জুলাই আন্দোলন দমন করতে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়া।

২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ।

৩. ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজে’ অপরাধ সংঘটনের সহযোগিতা।

৪. চাঁনখারপুলে ছয়জন হত্যা।

৫. আশুলিয়ায় ছয়জন হত্যা ও লাশ পোড়ানো।

প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে হত্যার প্ররোচনা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগ মিলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে তথ্য সরবরাহের জন্য ৫ বছরের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত নির্দেশনা

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই রায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নতুন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি দেশের ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার ঘটনা।