বাংলাদেশ অংশে মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
তলবের সময় মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। বিশেষ করে টেকনাফে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনানের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশে অপ্ররোচিত গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিবেশী সম্পর্কের জন্য মারাত্মক বাধা—এই বিষয়টি রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা বন্ধে মিয়ানমারকে পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বা দেশটির কর্তৃপক্ষ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব না ফেলে, সে দাবিও জানানো হয়।
জবাবে রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মো আশ্বস্ত করেন, তাঁর সরকার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি আহত শিশুসহ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকাল ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনান গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া গত সোমবার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যাং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
