বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল তবে উদ্বেগ আছে: যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন

Media

বাংলাদেশে রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পর মানবাধিকার পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতি এসেছে, তবে পুরোপুরি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি—এমন মন্তব্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার বিষয়ক ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন একটি সরকার গঠন করা হয়, যার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট মাসের কিছু ঘটনার পর থেকে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতা পেলেও, এখনো বেশ কিছু বিষয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নানা ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, “নির্বিচারে ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, আটক এবং শিশুশ্রমের ভয়াবহ চিত্র তখনও প্রকটভাবে বিদ্যমান ছিল।”

এছাড়া আগের সরকারের আমলে দায়মুক্তি সংস্কৃতি ও জবাবদিহির অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আগের সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মানবাধিকার সুরক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য এখনও নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

 

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ঢাকার পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এই মামলায় আরও আসামি হিসেবে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, টিউলিপের মা শেখ রেহানা, ভাই রাদওয়ান সিদ্দিক এবং বোন আজমিনা সিদ্দিক ‘রূপন্তী’-কে আদালত আয়োজনে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

এ ছয়টি পৃথক দুর্নীতি মামলায়—যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের বহু সদস্য রয়েছে—গত ৩১ জুলাই ঢাকার দুইটি বিশেষ জজ আদালত অভিযোগ গঠন করেন। এরপর, গত ১১ আগস্টও তিনটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, যেখানে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধেও চালানো হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গণ-অভ্যুত্থনের পরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। এরপর, ডিসেম্বরে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) তদন্ত শুরু করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে।

প্রসঙ্গত, টিউলিপ সিদ্দিক সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া, তিনি জানান যে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা থেকে কোনো সমন বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি।