টেস্ট নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেন শান্ত

Media

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংস ও ৭৮ রানে পরাজয়ের পর টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শান্তর ১৪ ম্যাচের টেস্ট অধিনায়কত্ব অধ্যায়। এই সময়ে তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪টি জয়ে, যা জয়-পরাজয়ের অনুপাত এবং শতকরা সাফল্যের বিচারে তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কদের শীর্ষে নিয়ে যায়। এত কম সময়ের মধ্যে এমন পরিসংখ্যান গড়েই বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা হয়ে ওঠেন তিনি।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় শান্তর। সে ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান তিনি, যার ফলে পরবর্তীতে টেস্ট দলের নিয়মিত অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান।

তবে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ঢেউ উঠে। টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব এখন লিটন দাসের কাঁধে এবং ওয়ানডে অধিনায়ক হয়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার শান্ত নিজেই সরে দাঁড়ালেন লাল বলের নেতৃত্ব থেকে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। কিন্তু ম্যাচ ড্র হওয়ার পর ইনিংস ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর সেই চাপ আরও বাড়ে।

এখন বাংলাদেশের সামনে রয়েছে নতুন টেস্ট অধিনায়ক বেছে নেওয়ার সুযোগ, কারণ আগামী টেস্ট সিরিজ মাঠে গড়াবে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে, প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, ভেন্যু বাংলাদেশের মাটিতে।

শান্তর নেতৃত্বের সময়ে যেমন সাফল্য এসেছে, তেমনি এসেছে বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী লাল বলের সেনানায়ক।

এক ইনিংস ও ৭৮ রানে হার বাংলাদেশের, সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে চতুর্থ দিন মাত্র আধাঘণ্টাই টিকলো বাংলাদেশ। শনিবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে টাইগাররা এক ইনিংস ও ৭৮ রানে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে। এই জয়ে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

তৃতীয় দিন শেষে উইকেটে ছিলেন লিটন দাস ও নাঈম হাসান। তবে চতুর্থ দিনের শুরুতেই স্পিনার প্রবাথ জয়সুরিয়ার ঘূর্ণি ফাঁদে পড়ে দুজনেই ফিরে যান। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান, নাঈম করেন ৫। এরপর দ্রুতই ফিরে যান তাইজুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন।

লঙ্কান স্পিন আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখেন প্রবাথ জয়সুরিয়া, যিনি নেন ৫ উইকেট। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও থারিন্দু রত্নানায়েকের শিকার ২টি করে উইকেট।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তুলনামূলক ভালো সূচনা করেও থেমে যায় ২৪৭ রানে। জবাবে শ্রীলঙ্কা তুলে ফেলে ৪৫৮ রানের বিশাল স্কোর, যেখানে তারা ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে নেয় ২১১ রানের লিড।

শেষ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে প্রবল স্পিন আক্রমণের সামনে। এই ম্যাচের পরাজয়ে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে দলের মানসিক দৃঢ়তা ও টেস্ট ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা নিয়ে।