বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহযোগিতা দিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রিচার্ড বিলি।
তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অবতরণ করেন-এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া সেল।
ডা. বিলি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কোনো বিলম্ব না করে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
এভারকেয়ারের কাছে হেলিকপ্টার ট্রায়াল নিয়ে গুজব এড়ানোর আহ্বান
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার পাশের মাঠে পরীক্ষামূলক হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কান না দিতে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বুধবার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিকটবর্তী দুটি খোলা মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়ন পরীক্ষা পরিচালনা করবে। এটি সম্পূর্ণ নিয়মিত এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত অনুশীলন বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এ বিষয়ে তৈরি হওয়া অপপ্রচার বা ভুল ব্যাখ্যা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ২৭ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে মারাত্মক সংক্রমণে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা, নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা, সম্ভব হলে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং উচ্চ মর্যাদা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতো তার নিরাপত্তায় এসএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ডা. জাহিদ হোসেন জানান, মেডিকেল বোর্ড মূল্যায়ন করছে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন কি না। তিনি বলেন, “যদি বোর্ড মনে করে তাকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন, তখন যথাসময়ে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।”
