‘গোপালগঞ্জের ঘটনার দায়ভার সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে’

Media

ছবি: নাহিদ ইসলাম।

গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম। গতকাল বুধবারের ওই ঘটনার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, “আমরা চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়, সেটাই আমাদের অবস্থান। সন্ত্রাসীদের অবশ্যই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার দায় সরকার ও প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা চাই, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”

শুধু গোপালগঞ্জ নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের অভিযান সারাদেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।

গোপালগঞ্জের সহিংসতা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

গোপালগঞ্জে বুধবারের সহিংস ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণিকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে অতিরিক্ত সচিব এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটিকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে যেকোনো বেআইনি কার্যকলাপ, সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়।

গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি, সহিংসতার ঘটনায় ২০ জন আটক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বুধবার গোপালগঞ্জে দিনভর চলা সংঘর্ষের পর রাত থেকে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একইসঙ্গে এলাকাজুড়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কারফিউ চলাকালীন বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।