আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে চলছে অবরোধ

Media

ঢাকার শাহবাগ মোড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবরোধ কর্মসূচি। তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনের পটভূমি

শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবরোধ শুরু করেন। এর আগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের পাশের মঞ্চ থেকে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সারা রাত আন্দোলনকারীরা শাহবাগে অবস্থান করেন এবং শনিবার সকালেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সকালে লোক সমাগম কিছুটা কম দেখা গেছে ।

তিন দফা দাবি

আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন:

১/ আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

২/আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করতে হবে।

৩/ জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে।

গণজমায়েতের ঘোষণা

শনিবার বিকেল ৩টায় শাহবাগে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে ।

যান চলাচল ও জনদুর্ভোগ

অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড়ের প্রতিটি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনগুলোকে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যান্য মহাসড়কে ব্লকেড না দেওয়ার আহ্বান

হাসনাত আবদুল্লাহ আন্দোলনকারীদের শাহবাগ ছাড়া ঢাকার অন্যান্য স্থানে বা দেশের মহাসড়কে ব্লকেড না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, "ঢাকার শাহবাগ ছাড়া ঢাকা বা সারাদেশের হাইওয়েগুলোতে ব্লকেড দিবেন না। জেলাগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত করুন, সমাবেশ করুন। কিন্তু ব্লকেড না। ব্লকেড খুলে দিন"।

এই আন্দোলনের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতেই হবে। ষড়যন্ত্র ও ট্যাগিং দিয়ে আন্দোলন থামাতে পারবেন না।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি আমাদের যেকোনো বাইনারিতে ফেলে ভাগ করতে পারেন। এসব ভাগ করে, ষড়যন্ত্র করে ও ট্যাগিং দিয়ে আমাদের থামাতে পারবেন না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতেই হবে।’