বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ সকাল ১০টায় একটি ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, এ বি এম খায়রুল হক দেশের ঊনবিংশতম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে একটি মামলা গত ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন দায়ের করেন শাহবাগ থানায়— যেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি রায় জালিয়াতি ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। অন্য মামলাটি করা হয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায়, সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী বাতিলের রায় ‘পরিবর্তন ও জালিয়াতির’ অভিযোগে।
গত ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতির গ্রেপ্তারের ঘটনাটি দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাসানুল ইসলাম জামিন আবেদন খারিজের এ আদেশ দেন। শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সকাল সাড়ে ১১টায় শুনানি শুরু হলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক জামিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
তিনি জানান, নিরাপত্তার কারণে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি আইনজীবী দল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে তারাও পুলিশি প্রহরায় আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।
এর আগে গত ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ২০ জন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা রয়েছে।
আদালতের আজকের আদেশের ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হবে তাকে।
