বাফলোর এলমউড অ্যাভিনিউয়ে আইস অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার

Media

যুক্তরাষ্ট্রের বাফলো শহরে বৃহস্পতিবার সকালে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই জানিয়েছে, এটি একটি “চলমান তদন্তের” অংশ।

আইস কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃত চার ব্যক্তি “এড়ানোর কৌশল” ব্যবহার করে পালানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপদে তাদের আটক করে নিউইয়র্কের বাতাভিয়ায় অবস্থিত বাফেলো ফেডারেল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের পরিচয়:

মানুয়েল গনজালেজ দে লেওন (৩৩) — মেক্সিকো

লুসিয়ানো রামিরেজ-গার্সিয়া (৩০) — মেক্সিকো

ভিসেন্তে হের্নান্দেজ-ভেলাসকেজ — গুয়েতমালা

জেরোনিমো গিলবার-মিসায়েল (২৭) — গুয়েতমালা

তদন্তে জানা গেছে, চারজনই কাজ করতেন এলমউড অ্যাভিনিউয়ের আগুয়াকাতেস রেস্টুরেন্টে। আইসের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।

আইসর একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম ও অভিবাসন আইন বজায় রাখায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কর্মক্ষেত্রে শোষণ রোধ ও শ্রমবাজারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

একই রেস্টুরেন্টটি নয় বছর আগে, তখন আগাভে  নামে পরিচিত ছিল এবং ভিন্ন মালিকানায় পরিচালিত হতো, সেবারও আইসিই’র অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। সেসময় পশ্চিম নিউইয়র্কের আরও তিনটি মেক্সিকান রেস্টুরেন্টেও একযোগে অভিযান চালানো হয়েছিল।

এই ঘটনার প্রতি প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাস্টিস ফর মাইগ্রান্ট ফ্যামিলিজ সংগঠনের পরিচালক জেনিফার কনর, যাদের সংগঠনটির জন্মই হয়েছিল নয় বছর আগের সেই রেইডের পর কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া থেকে।

কনর বলেন, “নয় বছর আগের অবস্থা এখন আর নেই। তখন জামিন (বন্ড) ছিল, আজ সেটা নেই। এখন মানুষকে আরও কঠোর ও জটিল অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, অনেককে খারাপ পরিস্থিতির কারণে বাধ্য করা হচ্ছে ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে’।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সম্প্রদায় অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তবতা হলো— তারাই আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের সমাজের অংশ।”

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জন রিভেরা একটি ফেসবুক পোস্টে অভিযানে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “এই এলাকা বৈচিত্র্যের কারণে সমৃদ্ধ। এখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ব্যবসা শুরু করেন, পরিবার গড়ে তোলেন, আমাদের শহরের সংস্কৃতি শক্তিশালী করেন। আজ যা ঘটেছে, তা কেবল আইন প্রয়োগের ঘটনা নয়— এটি আমাদের কমিউনিটির মূল্যবোধ ও পরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।”

অভিযানের পর বৃহস্পতিবার রাতেই রেস্টুরেন্টের সামনে আইস বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা, অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এবং মানবাধিকার কর্মীরা আইসিইকে বাফলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।