ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পশ্চিম নিউইয়র্কের মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে আতঙ্ক

Media

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পটভূমিতে পশ্চিম নিউইয়র্কের ইহুদি ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষই এখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশায় অপেক্ষা করছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর বাফলোর ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাফলোর চাবাড সেন্টার ফর জিউইশ লাইফের পরিচালক রাব্বি মেন্ডি লাবকোভস্কি বলেন, “ইসরায়েলেও মানুষ ভীষণভাবে চিন্তিত, আমেরিকাতেও। কারণ কেউ জানে না, এই পরিস্থিতি কত দূর যেতে পারে।”

ইসরায়েলে জন্ম নেওয়া লাবকোভস্কির পরিবারের অনেক সদস্য এখনও সেখানেই বসবাস করেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন। তবে অস্থিরতার কারণে তা কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “ওদেরকে বোমাশেল্টারে ঢুকতে শুনে খুব ভয় লাগছিল। আমার দাদু-দাদি প্রায় ৮০ বছর বয়সী। গত শুক্রবার সকালে ফোন করতেই ওরা বলল, ‘সাইরেন শুনছো? আমাদের এখনই বাঙ্কারে ঢুকতে হবে।’ এটা কোনো স্বাভাবিক জীবনযাপন নয়।”

শুধু ইহুদি সম্প্রদায় নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। দুই পক্ষই আশঙ্কা করছেন, সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে।

মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল অব ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট ড. খালিদ কাজি বলেন, “সবাই উদ্বিগ্ন। শুধু উদ্বিগ্নই নয়, এক ধরনের ভয় ছড়িয়ে পড়েছে কমিউনিটিতে, যেটা ইরানি জনগণের ভয়কেও প্রতিফলিত করে।”

মার্কিন হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দাবি করেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের কিছু নেতা দাবি করেছেন, হামলার আগেই পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ড. কাজির মতে, যদি সেই দাবি সত্য হয়, তাহলে মার্কিন হামলার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে এবং এর উল্টো প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে ইরান হয়তো আরও জোরালোভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে এগোবে, কারণ ওদের কাছে মনে হচ্ছে এটিই এখন তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র উপায়।”

“আমি আশা করি, বিবেচনার বোধ জাগ্রত হবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

এদিকে রাব্বি লাবকোভস্কিও শান্তির আশায় প্রার্থনা করছেন, “আমরা শুধু চাই সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। আর যেন ইরানের হাতে আর কোনো পারমাণবিক ক্ষমতা না থাকে। আমরা দুই পক্ষের জন্যই শান্তি চাই।”