২০২৪ সালের এপ্রিলে বাফলোর ইস্ট সাইডে দুই বাংলাদেশি হ্যান্ডিম্যানকে হত্যার ঘটনায় ডেল ও. কামিংস (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে প্রথম-ডিগ্রির হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এরি কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি মাইকেল কীন।
কামিংসের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যার পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয়-ডিগ্রির অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তি, বাবুল মিয়া (৫৯) ও আবু ইউসুফ (৩৯), উভয়েই বাফলোর বাসিন্দা ছিলেন এবং ঘটনার সময় জেনার স্ট্রিটের ১০০ ব্লকের একটি বাড়িতে মেরামতের কাজ করছিলেন।
অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কামিংস অবৈধভাবে বাড়ির উপর তলায় বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল ওই বাড়িতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বাবুল ও ইউসুফকে গুলি করে হত্যা করেন। কামিংস একটি অবৈধ সেমি-অটোমেটিক রাইফেল ব্যবহার করে বাড়ির প্রবেশদ্বারের কাছেই তাদের উপর প্রথম গুলি চালান এবং তারা যখন বাইরে পালানোর চেষ্টা করেন, তখনও গুলি চালিয়ে যান।
জেলা অ্যাটর্নি কীন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, জুরি বোর্ড এই নৃশংস ও অকারণ হত্যাকাণ্ডের জন্য আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই দুই ব্যক্তি শুধু নিজেদের কাজ করছিলেন, তখনই তারা এক সশস্ত্র স্কোয়াটারের মুখোমুখি হন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই অপরাধীর গুলিতে তাদের জীবন শেষ হয়ে যায়। নিহতদের পেছনে স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছেন, এবং আমি আশা করি আদালতের এই রায় তাদের কিছুটা হলেও ন্যায়ের অনুভূতি এনে দেবে।”
ডেল কামিংসের শাস্তি ঘোষণা হবে ২৫ জুলাই। তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি, যেখানে কোনো প্যারোলের সুযোগ থাকবে না।
যথেষ্ট হয়েছে, এখন থামার সময়: জাতিসংঘ মহাসচিব
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি ও সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গুতেরেস বলেন, “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের জবাবে তেল আবিবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যথেষ্ট উত্তেজনা দেখানো হয়েছে। এখন থামার সময়। শান্তি এবং কূটনীতির জয় নিশ্চিত করতে হবে।”
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধসে পড়েছে বহু ভবন।
ইসরায়েলের জরুরি সেবাবিষয়ক সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “রেড অ্যালার্ট সাইরেন বাজার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলার খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিকিৎসা ও প্যারামেডিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।”
এর আগে, শুক্রবার রাতে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলের আগের হামলার প্রতিক্রিয়ায় চালানো এই পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এর মুখপাত্র এফি ডেফরিন জানান, “কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তবে অধিকাংশই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “রাতে আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে, তাই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে বলা হচ্ছে।”
চলমান এই সংঘাত ঘনীভূত হলে তা পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য এখনই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
