স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বাফলোর ড্যানিয়েলস সচেতনতার ছবি আঁকছেন

Media

জনফ্রেডরিক ড্যানিয়েলস একজন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ও পাঁচ সন্তানের জনক। ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কজুড়ে তিনি ইতোমধ্যে তিন ডজনেরও বেশি দেয়ালচিত্র এঁকেছেন। সম্প্রতি নিজের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর বাল্টিমোরে জন্ম নেওয়া শিল্পী তার রোগনির্ণয়কে সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন-বিশেষ করে পুরুষদের জানাতে চাইছেন, এই রোগ তাদেরও হতে পারে।

ড্যানিয়েলসের শিল্পকর্ম দুঃখের মাঝেও ‘কুইন সিটি’কে এক করেছে। এর উদাহরণ ২০২২ সালে টপস সুপারমার্কেটে সংঘটিত গণগুলিতে নিহত ১০ জনের স্মরণে বাফলোর পূর্ব পাশে আঁকা যৌথ দেয়ালচিত্রটি। চার বছর আগে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি তুলি হাতে নেন।

ড্যানিয়েলস বলেন, “কয়েক বছর আগে আমি একটি সন্তান হারাই। একসময় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল। কেন ঈশ্বর আমার সন্তানকে নিয়ে গেলেন, তা বুঝতে পারছিলাম না—নিজেকেই দায়ী মনে হতো।”

“একসময় দেখলাম, ১০–১৫ ঘণ্টা একটানা আঁকছি। আঁকা শেষে এতটাই ক্লান্ত থাকতাম যে দুঃখ করার শক্তিই থাকত না,” বলেন ড্যানিয়েলস। “এভাবেই চলতে চলতে এটা আমার জীবনের বড় অংশ হয়ে ওঠে।”

তিনি বলেন, “আমি যখন অন্ধকারে ছিলাম, পৃথিবীটাকেও অন্ধকারই মনে হতো। মানুষ যখন আমার কাজ পছন্দ করতে শুরু করল, তখন মনে হলো আমি আলোতে চলে এসেছি। তাই আরও রঙ—যত বেশি সম্ভব।”

শিল্প শুধু তার আবেগের প্রকাশ নয়; এটি তার জীবনরেখা। আর এবার আবারও সেই শিল্পই তাকে বাঁচিয়ে রাখছে। গত শরতে বাম বুকে একটি ছোট গাঁট টের পান—যেটা তিনি কখনোই কল্পনা করেননি—স্তন ক্যানসার।

“ওরা যখন বলল, তখন মনে হয়েছিল—অসম্ভব, আমি তো পুরুষ!” বলেন ড্যানিয়েলস।

রসওয়েল পার্ক কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের স্তন ক্যানসার বিভাগের প্রধান ও অনকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেহেরিয়ার কাবরাজি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় প্রতি আট জনে একজন। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা প্রায় প্রতি ৮০০ জনে একজন—মোট রোগীর এক শতাংশেরও কম।

ডা. কাবরাজি বলেন, “পুরুষরা সাধারণত বুকে গাঁট পাওয়ার বিষয়টি কল্পনাই করেন না। ঝুঁকির কথা না জানায় তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। অথচ পুরুষদের শরীরেও স্তন টিস্যু আছে, যদিও তা অপরিণত। জেনেটিক ঝুঁকি থাকলে উভয় স্তনে ক্যানসারের সম্ভাবনাও বাড়ে।”

ড্যানিয়েলসের ধরা পড়েছে HER2-পজিটিভ উভয় স্তনের ক্যানসার। তিনি ইতোমধ্যে অন্তত ছয় ধাপের কেমোথেরাপির মধ্যে দুই ধাপ সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া বগলের লিম্ফ নোড অপসারণে অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হবে।

“চুল টানতেই কিছু চুল উঠে এলো—তখন বুঝলাম, এটা বাস্তব,” বলেন তিনি। “আমি ভয় পাচ্ছি, কিন্তু আমার ছেলেদের জন্য আমাকে লড়তেই হবে। আমি ওদের বলেছি—তোমাদের বাবা লড়বে। ওরাও বলেছে, ‘আমরা জানি বাবা লড়বে।’”

সহমর্মী হৃদয়ের এই যোদ্ধা আবারও লড়াইয়ে নেমেছেন। চিকিৎসার মাঝেও রঙ-তুলিতে ভর করে তিনি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছেন—আর পুরুষদের জানাতে চাইছেন, তারাও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন।

ডা. কাবরাজি বলেন, “পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যানসার কম হলেও শরীর কোনো সংকেত দিলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। ভয় নয়, সচেতনতাই হোক পথপ্রদর্শক।”

ড্যানিয়েলস বলেন, “ইন্টারনেটে শত শত মানুষকে উত্তর দিয়েছি—ওরা জানতই না পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হয়। এটাই ভয়ংকর। হয়তো অনেক পুরুষ এখনো জানেই না যে তারা আক্রান্ত। আমি শুধু আরেকটা সুযোগ চাই—এই লড়াই জিততে পারলে দেখাতে চাই, পুরুষদেরও এই রোগ হতে পারে, আর আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে—হাসিমুখেই।”