যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফলো শহরের মেয়র শন রায়ান শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, তার প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশের খসড়া প্রস্তুত করছে, যার মাধ্যমে বাফলো পুলিশসহ শহরের সব দপ্তরকে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে কাজ করা থেকে নিষিদ্ধ করা হবে।
রায়ান বলেন, এই আদেশের লক্ষ্য হলো—“শহর সরকারের কোনো অংশ যেন কোনোভাবেই ফেডারেল অভিবাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত না থাকে।”
তিনি যোগ করেন, “এই নিষেধাজ্ঞা ভবন পরিদর্শক থেকে শুরু করে ময়লা সংগ্রহকারী, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।”
বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই ভিজিটর সেন্টারে আয়োজিত এক নাগরিক ও অধিকারকর্মীদের সমাবেশে রায়ান বলেন, “আমরা চাই না কোনো ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হোক। মানুষ যেন সিটি হলে সেবা নিতে আসতে ভয় না পায়—এই আশঙ্কায় যে তাদের আসার ফলে অভিবাসন দপ্তরে ফোন চলে যাবে।”
যদিও তিনি আদেশে স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়সূচি জানাননি, তবে বলেছেন এটি “শিগগিরই” জারি করা হবে।
এর আগে রচেস্টার ও নিউইয়র্ক সিটির মতো শহরগুলোতে আইন রয়েছে, যেখানে সিটি কর্মচারীদের কাউকে অভিবাসন অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা নিষিদ্ধ এবং পুলিশকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
মেয়রের এই ঘোষণার কয়েক দিন আগেই গভর্নর ক্যাথি হোকুল তার ‘স্টেট অব দ্য স্টেট’ ভাষণে অভিবাসনসংক্রান্ত দুটি আইনের প্রতি সমর্থন জানান। প্রস্তাবিত এক আইনে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করলে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা তাদের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন। আরেকটি আইনে বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও উপাসনালয়ে অভিবাসন এজেন্টদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
তবে গভর্নর এখনো ‘নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট’-এর প্রতি সমর্থন দেননি, যে আইনে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্মচারীদের অভিবাসন তথ্য জিজ্ঞাসা বা ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও নিউইয়র্ক সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিন্স চলতি মাসের শুরুতেই এই বিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে—যা পার্টনারশিপ ফর দ্য পাবলিক গুড আয়োজন করেছিল—শোয়িং আপ ফর রেসিয়াল জাস্টিস, নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন ও জাস্টিস ফর মাইগ্র্যান্ট ফ্যামিলিজসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট এবং মেয়র রায়ানের প্রস্তাবিত নির্বাহী আদেশের প্রতি সমর্থন জানান।
এসইউআরজে বাফলোর সদস্য অ্যালি ডোরান বলেন, “অসহযোগিতার এই নির্বাহী আদেশ ভয় ও আতঙ্কে থাকা মানুষদের জন্য সংহতি ও আশার শক্তিশালী বার্তা দেবে। অঙ্গরাজ্যের অপেক্ষায় না থেকে, আমাদের নিজেদের শহরের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।”
জাস্টিস ফর মাইগ্র্যান্ট ফ্যামিলিজের নির্বাহী পরিচালক জেনিফার কনরও আদেশটি দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি শহর হিসেবে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আমাদের সম্পদ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংস ফেডারেল কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হবে না।”
এর আগে ইনভেস্টিগেটিভ পোস্ট জানায়, ইরি কাউন্টি শেরিফ অফিস ও চীকটোওয়াগা পুলিশ ডিপার্টমেন্টসহ কয়েকটি স্থানীয় সংস্থা আটক অভিবাসীদের প্রায়ই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে, যারা পরে তাদের আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর জিম্মায় দেয়। এ সপ্তাহে চীকটোওয়াগার বাসিন্দারা টাউন কাউন্সিল বৈঠকে এই সহযোগিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
মেয়র রায়ান স্পষ্ট করে বলেন, অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও ফৌজদারি আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে, তবে তা ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সঙ্গে যুক্ত হবে না।
তিনি বলেন, “অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে কোনো অপরাধ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তবে আমরা নিশ্চিত করব—বাফেলো সিটি সরকারের কোনো অংশ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা আইসিইর সঙ্গে মিলে মানুষকে হয়রানি করবে না।”
তিনি এই নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’ বলতে রাজি হননি। তার ভাষায়, “এই শব্দগুলোর মানে আমি ঠিক জানি না।”
রায়ান আরও বলেন, শরণার্থী ও অভিবাসীদের আগমনের কারণেই বাফেলোর জনসংখ্যা ও করভিত্তি বেড়েছে।
“আমাদের শহরে ফাঁকা বাড়ি ও দোকান কমেছে একটাই প্রধান কারণে—নতুন আমেরিকানরা বাফলোতে এসে বসতি গড়ছে। অভিবাসীদের আসা বন্ধ করা আমাদের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর,” বলেন তিনি।
