যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কফি, কলা ও গরুর মাংসসহ নানান খাদ্যপণ্যকে তার আরোপিত ব্যাপক শুল্কের বাইরে রাখার নির্দেশে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রশাসন যে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রেক্ষাপট।
এর আগে ট্রাম্প জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিলেও, গত সপ্তাহের নির্বাচন-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টির দুর্বল ফলাফলের পর তিনি বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ছাড়ের তালিকায় অ্যাভোকাডো, টমেটো, নারকেল, আমসহ ডজন ডজন খাদ্যপণ্যের নাম রয়েছে-যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব নয় বলেই প্রশাসনের দাবি।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে তার শুল্ক-যা এখন সব দেশের আমদানির ওপর ভিত্তিগত ১০% এবং আরও অনেক দেশের ওপর অতিরিক্ত আরোপিত-মার্কিন নাগরিকদের জন্য পণ্যমূল্য বাড়াবে না। তিনি আবার বলেছিলেন, ‘সাশ্রয়ী দাম’ নাকি ডেমোক্র্যাটদের তৈরি করা নতুন শব্দ এবং “প্রতারনা”।
তার যুক্তি, শুল্ক হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায়-যে ঘাটতি তৈরি হয় অন্যান্য দেশ থেকে কেনা পণ্যের মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্র যেগুলো বিক্রি করে তার ব্যবধান থেকে। তিনি বলেন, বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুট করেছে’, আর বেশি কর আরোপ করলে আমেরিকানরা দেশীয় পণ্য কেনায় উৎসাহিত হবে।
তবে মুদিপণ্যের দাম এবং বিশেষ করে গরুর মাংসের উর্ধ্বমূল্য এখন ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে তিনি মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পে তদন্তের দাবি তোলেন, অভিযোগ করেন সেখানে “অবৈধ আঁতাত, কারসাজি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ” চলছে।
জনসমর্থন পেতে তিনি আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের শুল্ক–রিবেট চেক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন-যদিও সুপ্রিম কোর্ট এখনো বিচারেরত যে ট্রাম্প এসব শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা রাখতেন কি না।
কিন্তু খাদ্যপণ্যে সাম্প্রতিক শুল্ক ছাড়কে বিশ্লেষকরা বলছেন প্রশাসনের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত-যেখানে মূল্য কমাতে হোয়াইট হাউস কিছু খাদ্যপণ্যের আমদানি শুল্ক ফেরত নিচ্ছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এসব ছাড় শুধু সেইসব পণ্যের জন্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হয় না-“তাই এতে আমাদের শিল্প বা খাদ্যপণ্যগুলোর কোনো সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বড় ধরনের শুল্ক–পরিবর্তন প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।
“আমরা কেবল কিছু খাবার—যেমন কফির ওপর—একটা ছোট রোলব্যাক করেছি। কফির দাম কিছুটা বেশি ছিল। এখন খুব দ্রুত তা কমে আসবে,” ট্রাম্প বলেন।
অর্থনীতিবিদেরা বরাবরই সতর্ক করেছেন যে শুল্কের খরচ শেষপর্যন্ত ভোক্তাদের ঘাড়েই গিয়ে পড়ে, বাড়তি মূল্যের মাধ্যমে।
সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম থাকলেও, শ্রম দপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে-বাজারের বেশিরভাগ পণ্যেরই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, মুদিপণ্যই শুধু গত বছরের তুলনায় ২.৭% বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানায়, খাদ্যপণ্যে নতুন শুল্ক ছাড় কার্যকর হবে ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে, অতীতেও প্রযোজ্য হিসেবে।
মুদিপণ্যের দাম নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ কমাতে আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবে, চারটি লাতিন আমেরিকার দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসাবে কফি ও কলার আমদানি করও কমানো হবে।
এই সপ্তাহে ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দু’জনেই যুক্তরাষ্ট্রে কফির দাম ২০% কমানোর অঙ্গীকার করেছেন।
কোন কোন পণ্যে আর শুল্ক প্রযোজ্য নয়?
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তালিকায় ১০০টিরও বেশি পণ্যের নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
কফি, কোকো, ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি, ভ্যানিলা বিন।
গরুর মাংস, প্রিমিয়াম কাট, হাড়সহ/হাড়বিহীন, কর্নড বিফ, হিমায়িত, নোনা বা ধোঁয়া দেওয়া মাংস
ফল: আসাই, অ্যাভোকাডো, কলা, নারকেল, পেয়ারা, লেবু, কমলা, আম, প্ল্যানটেন, আনারস, বিভিন্ন মরিচ ও টমেটো
মসলা: অলস্পাইস, তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, ধনে, জিরা, কারি মিক্স, ডিল, মৌরি, আদা, জয়ফল, ওরেগানো, পাপরিকা, জাফরান, হলুদ
বাদাম, শস্য, মূল ও বীজ: বার্লি, ব্রাজিল নাটস, ক্যাপার, কাজু, চেস্টনাট, ম্যাকাডেমিয়া নাটস, মিসো, পাম হার্ট, পাইন নাটস, খেসারি, টেপিওকা, আরবি, ওয়াটার চেস্টনাট
