যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা সাক্ষাৎকার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

Media

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে নতুন শিক্ষার্থী এবং এক্সচেঞ্জ ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ভিসা আবেদন করতে সাময়িকভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপের ওপর বাড়তি নজরদারি চালানো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন সাক্ষাৎকার নির্ধারণ করা যাবে না। এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই প্রক্রিয়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রুটিন কনস্যুলার সেবা স্থগিত রয়েছে এবং নতুন ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ বন্ধ রয়েছে। যাদের সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে নির্ধারিত ছিল, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো পরিবর্তন নেই।

যাদের সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে নির্ধারিত ছিল, তারা দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে নতুন আবেদনকারীদের জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ আপাতত বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য ও আপডেটের জন্য ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট bd.usembassy.gov নিয়মিত পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এই স্থগিতাদেশের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পরিকল্পনা বিলম্বিত হতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নির্দেশনা জারি হলে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণ করা হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করে নিয়মিত আপডেটের জন্য দূতাবাসের ওয়েবসাইট পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন সমর্থিত গোষ্ঠীর ত্রাণ বিতরণে গাজায় উপচে পড়া ভিড়-বিশৃঙ্খলা

গাজা উপত্যকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি নতুন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে মঙ্গলবার হাজার হাজার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি উপচে পড়া ভিড় করেন, যা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ।

সংস্থাটি রাফাহ অঞ্চলের বিতরণ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার দ্বিতীয় দিনেই হাজারো মানুষ খাদ্য সহায়তা পেতে ভিড় করেন। ভিড় সামাল দিতে না পেরে কেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পড়ে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে আহত হন।

গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন এর এই উদ্যোগটি জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, এই ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এছাড়া, বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ও মুখের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি এই সহায়তা গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

হামাস এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে ইসরায়েলের একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে, যা ফিলিস্তিনিদের স্থানচ্যুত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তারা ফিলিস্তিনিদের এই কেন্দ্রগুলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যদিও অনেকেই ক্ষুধার্ত অবস্থায় এই আহ্বান উপেক্ষা করে সহায়তা নিতে এসেছেন।

জিএইচএফ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে প্রায় ৮,০০০ খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করেছে, যা প্রায় ৪,৬২,০০০ খাবারের সমান। তবে, গাজার ২.৩ মিলিয়ন মানুষের জন্য এটি পর্যাপ্ত নয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জেক উড সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন এই পরিকল্পনা মানবিক নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।