রাশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় কামচাটকার কমপক্ষে ১২৬ কিমি দূরে পেট্রোপাভলোভস্ক-কামচাতসকির পাশে এই অতিভারি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মাঝরাতে স্থানীয় সময় ১১:২৫টায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্প শুরুর পর প্রথমে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা খবরে চলে আসে ৮.৭, পরে হালনাগাদ পর্যালোচনায় তা ৮.৮ এ উন্নীত করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে ভূমিকম্পটি প্রায় ১৮–১৯ কিমি গভীরে সংঘটিত হয়, যা অত্যন্ত অগভীর স্তরের ও এতে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করে। কামচাটকার গভর্নর ভ্লাদিমির সলোদভ ভাইডিও বার্তায় উল্লেখ করেছেন, “গত কয়েক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন,” এবং প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানি না থাকলেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে—একটি কিন্ডারগার্টেন ধ্বংস হয়েছে ও কিছু লোক আহত হয়েছেন ।
অগ্নিকুণ্ডীয় অঞ্চলে এই ভূমিকম্প সুনামির ঝুঁকি সৃষ্টি করে। স্থানীয় জরুরি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, কামচাটকা উপকূলবর্তী এলাকায় তিন থেকে চার মিটার উঁচু সুনামি দেখা দিয়েছে। ফলে প্যাসিফিক অঞ্চলের বিস্তীর্ণ দেশের উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।
সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়:
# রাশিয়ার স্থানীয় উপকূলীয় অঞ্চল ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জ।
# জাপানের হওক্কাইডো থেকে কিউশু পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল, যেখানে কিছু অংশে রাতে এক মিটার পর্যন্ত তরঙ্গ সম্ভাবনা ছিল।
# যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল (ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন), আলাস্কার এলেউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, হাওয়াইসহ প্রসারিত অঞ্চলে সতর্কতা ও সতর্ক সংকেত।
এছাড়াও গুয়াম, মাইক্রোনেশিয়া (যেমন পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ), দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ—চিলি, মেক্সিকো, একুয়েডর, পেরু—তথা তাইওয়ান ও ফিলিপিন্সেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
এই দুর্যোগে দক্ষিণ আমেরিকায় কেউ মারা যাননি বা তাৎক্ষণিক হানির খবর শোনা না গেলেও, ভূপৃষ্ঠে ক্ষয়ক্ষতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৫২ সালের পর এই অঞ্চলে এটাই অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প—১৯৫২ সালে একটি ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প দক্ষিণ কুরিল দ্বীপে ৯.১ মিটার উচ্চতার সুনামি সৃষ্টি করেছিল।
ভয়াবহ সুনামির আশঙ্কা ওয়াহু দ্বীপে
হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপ, যেখানে রাজ্যটির রাজধানী হনোলুলুও অবস্থিত, তাৎক্ষণিকভাবে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক সুনামির হুমকির মুখে দ্বীপটির বিস্তৃত অংশে এই নির্দেশ জারি করা হয়।
হনোলুলুর জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সতর্ক বার্তায় জানায়, “এখনই সরে যান! একটি ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানতে পারে।”
সতর্কতা ঘোষণার পরপরই ওয়াহু দ্বীপের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ওয়াইকিকি সৈকত ফাঁকা হতে শুরু করে। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা উপকূলীয় এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, হাওয়াইতে সুনামি আঘাত হানতে এখনও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আগেভাগেই সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে রাজ্য সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা।
