হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম এক ঘোষণায় জানান যে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তার বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার অনুমোদন হারিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ৬,৮০০ বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং "ওকে" আদর্শ প্রচার করে। এছাড়া, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডের তথ্য চাওয়া হয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপকে অবৈধ ও প্রতিশোধমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেছেন, "আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা তাদের প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেব না। বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাধীনতা ছাড়বে না এবং সাংবিধানিক অধিকার হারাবে না।"
এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড এই পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং প্রভাবিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারের হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে, যা তাদের স্বাধীনতা এবং বৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
ইউরোপীয় পণ্য ও আইফোনে শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প
ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। এছাড়া, বিদেশে তৈরি আইফোনের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই পদক্ষেপটি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইইউকে অভিযুক্ত করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালনা করছে না, যার ফলে বছরে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ইইউ এর বাণিজ্যিক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও গাড়ি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইফোনের ক্ষেত্রে, তিনি অ্যাপল ইন্ক-কে চাপ দিয়েছেন যাতে তারা তাদের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করে। এই পদক্ষেপটি তার আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, বিদেশি দেশগুলোই শুল্কের খরচ বহন করবে। এখন, অ্যাপল-এর মতো মার্কিন কোম্পানিগুলো সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে, যা খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।
এই ঘোষণার পর, ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। যেমন, জার্মানির ডিএএক্স সূচক ২.২৩% এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ২.৭৩% কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; এসএন্ডপি ৫০০, ডাও জোন্স ও নাসডাক সূচক ১% এর বেশি কমেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই শুল্ক আরোপ ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে জার্মানির মতো দেশগুলোর জন্য।
