গাজা দখলে ইসরায়েলকে না থামানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের

Media

গাজা পুরোপুরি দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এতে বাধা দেবেন না তিনি। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এখন তার প্রধান মনোযোগ গাজার মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইসরায়েল গাজা দখলের সিদ্ধান্ত নিলে তার অবস্থান কী হবে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, "বাকিটা ইসরায়েলের বিষয়।"

এর আগে গত বছর ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা আরও বেড়েছে। গাজার প্রায় ৮৬ শতাংশ এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। বাকি অংশেও অভিযান চালালে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনির জীবন হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনচা সতর্ক করে বলেন, গাজা দখল ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গাজা একটি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২০০৫ সালে সেনা ও বসতি প্রত্যাহারের পরও গাজার আকাশপথ, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের যুদ্ধ শুরুর পর উগ্র ইসরায়েলি নেতারা আবারও গাজায় বসতি গড়ার দাবি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও গাজা ফাঁকা করে দিতে চান বলে জানিয়েছেন, যা জাতিগত নিধনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ট্রাম্পও এক সময় এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, গাজা খালি করে সেখানে একটি ‘মধ্যপ্রাচ্যের অবকাশ কেন্দ্র’ তৈরি করা যেতে পারে।

গাজায় অব্যাহত হামলা, অবরোধ ও খাদ্য সংকটের মধ্যে চলতি বছর মার্চ থেকে ইসরায়েল মানবিক সহায়তার প্রবেশ কার্যত বন্ধ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সংস্থা ‘গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) পরিচালিত কিছু কেন্দ্র এখন গাজায় খাদ্যের প্রধান উৎস হলেও, এসব স্থানে সহায়তা নিতে গিয়ে বহু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ছয় কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে তিন কোটি ডলার গেছে জিএইচএফের মাধ্যমে। তিনি বলেন, "অনেক খাবার পাঠানো হয়েছে। ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর সহায়তায় এসব বিতরণ হবে।"

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতিকে গণহত্যার আশঙ্কা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।