ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের ২ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

Media

ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি রাজধানীর ক্যাপিটাল জিউইশ মিউজিয়ামের বাইরে সংঘটিত হয়। সেখানে তারা আমেরিকান জিউইশ কমিটির  আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

হামলাকারী মিউজিয়ামের বাইরে পায়চারি করছিলেন এবং ভুক্তভোগীরা অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।

জানা যায় ভুক্তভোগী একজন ইসরায়েলি পুরুষ ও একজন আমেরিকান নারী ছিলেন। যারা ইসরায়েলি দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। তারা যুগল ছিলেন এবং শিগগিরই বাগদান করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

হামলাকারী ৩০ বছর বয়সী এলিয়াস রদ্রিগেজ, যিনি শিকাগোর বাসিন্দা। তিনি ঘটনাস্থলে গ্রেপ্তার হন এবং গ্রেপ্তারের সময় "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" বলে স্লোগান দেন।

এফবিআই-এর জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ঘৃণাজনিত অপরাধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলাকারীর কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ট্রাম্প এটিকে "স্পষ্টতই ইহুদিবিদ্বেষী" আখ্যা দিয়ে ঘৃণা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৫৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ইসরায়েলি কূটনৈতিক কর্মীদের এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ হামলার মোটিভ ও পটভূমি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে।

ইরানে হামলা করতে প্রস্তুত ইসরায়েল

ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল বিমান মহড়া সম্পন্ন করেছে এবং আকাশপথে গোলাবারুদ সরানোর মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে তা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল মনে করছে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলার সুযোগ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই তারা কূটনীতি ব্যর্থ হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।