যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত অভিযানে বহু অভিবাসীকে আটক করার পর থেকেই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ায় ২,০০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে অনেক এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লস অ্যাঞ্জেলস শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে তারা ‘বিচার চাই’ এবং ‘অভিবাসন নীতি প্রত্যাহার করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। ফেডারেল ভবনের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। কিছু এলাকায় গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ জানায় অন্তত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “কোনো রাজ্যের সম্মতি ছাড়া সেখানে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন করা সাংবিধানিক নিয়ম ভঙ্গ করে।” মেয়র ক্যারেন বাস বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রুখতে সামরিক বাহিনী নামানো গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
ট্রাম্প প্রশাসন যদিও বলছে এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘অবিচার’ ও ‘গণআন্দোলন দমন’ বলে অভিহিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যু আরও চরমে উঠতে পারে।
গাজায় যাওয়ার পথে গ্রেটা থুনবার্গের ত্রাণের জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল
গ্রেটা থুনবার্গের নেতৃত্বে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠাতে যাওয়া জাহাজটি ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে। রবিবার, আন্তর্জাতিক জলসীমায় 'মাদলিন' নামের এই জাহাজটি আটক করা হয়। জাহাজে ছিলেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানসহ ১২ জন আন্তর্জাতিক কর্মী। তারা গাজায় খাদ্য, শিশু খাদ্য, ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই অভিযানটি 'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন পরিচালনা করছিল, যা ইসরায়েলের নৌ অবরোধের প্রতিবাদ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করে।
ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজটিকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করে এবং যাত্রীদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সহায়তা পরিমাণে নগণ্য ছিল এবং এটি আনুষ্ঠানিক মানবিক চ্যানেলের মাধ্যমে গাজায় পাঠানো হবে। তবে, 'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' দাবি করেছে যে, জাহাজে থাকা সহায়তা ইসরায়েলের নৌ অবরোধ ভেঙে সরাসরি গাজায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ছিল।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আটককৃত ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস গ্রুপ 'আদালাহ' এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিসবেন, সিডনি, মেলবোর্নসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' এই অভিযানকে গাজার মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এটি ২০১০ সালের 'মাভি মারমারা' হামলার পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা মানবিক সহায়তা পাঠাতে যাওয়া জাহাজ আটক করার আরেকটি ঘটনা। তবে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ধরনের অভিযানগুলোকে জনসংযোগের কৌশল হিসেবে দেখছে।
