নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১৫০০ কোটি ডলারের মামলা করছেন ট্রাম্প

Media

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা দায়ের করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মামলার বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কয়েক দশক ধরে নিউইয়র্ক টাইমস আমার, আমার পরিবার, আমার ব্যবসা, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলন, মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (এমএজিএ) এবং আমাদের জাতির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।”

নিউইয়র্ক টাইমসকে ‘ভার্চুয়াল মুখপত্র’ বললেন ট্রাম্প। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী কমলা হ্যারিসকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে টাইমস তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক টাইমস এখন মূলত চরম বামপন্থী ডেমোক্র্যাটিক দলের একটি ভার্চুয়াল মুখপত্রে পরিণত হয়েছে।”

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার আদালতেই মামলাটি করা হচ্ছে, যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতের নথির মাধ্যমে ট্রাম্পের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গে ট্রাম্প এর আগের কিছু মামলার কথাও তুলে ধরেন।

এবিসি নিউজ ও উপস্থাপক জর্জ স্টেফানোপোলোসের বিরুদ্ধে করা মামলার উল্লেখ করেন তিনি।

কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারের কারণে প্যারামাউন্টের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন ট্রাম্প।

এই দুটি মামলাই যথাক্রমে ১৫ মিলিয়ন ও ১৬ মিলিয়ন ডলারে নিষ্পত্তি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাদের কার্মঘণ্টার বাইরে অনুরোধ পাঠানো হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ জাতিসংঘের

ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে —জাতিসংঘের এক তদন্ত কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর, গণহত্যা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনে যে পাঁচটি অপরাধ চিহ্নিত, তার চারটিই ঘটিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে রয়েছে—মানুষ হত্যা, শারীরিক-মানসিক ক্ষতি, ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংসের পরিস্থিতি তৈরি এবং জন্ম রোধ।

কমিশন দাবি করেছে, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য ও সেনাবাহিনীর আচরণও গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে বিবেচ্য।

তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বিকৃত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা তদন্ত কমিশনের তিন বিশেষজ্ঞকে “হামাসপন্থী” বলেও আখ্যা দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হলে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, এবং অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত।

এছাড়া ৯০ শতাংশের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং গাজায় চরম খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ চলছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।