নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার ও ডেমোক্র্যাটিক মেয়র পদপ্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল ভবনে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্টরা। ইমিগ্রেশন কোর্টে এক অভিবাসীকে আটকাতে গেলে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দাঁড়ান—এ সময়ই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এপির একজন সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ল্যান্ডারের গ্রেফতারের মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক আটক ও নির্বাসন নীতির প্রতিবাদে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের সঙ্গে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এটি সর্বশেষ সংঘাত।
অবশ্য কয়েক ঘণ্টা হেফাজতে রাখার পর ল্যান্ডারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইউএস অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তার কর্মকাণ্ড তদন্তাধীন এবং ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে। ল্যান্ডার যাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন, তাকেও আটক করা হয়েছে।
সকালে ল্যান্ডার ইমিগ্রেশন কোর্টের শুনানি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং এপি-কে বলেছিলেন, তিনি কয়েকজন অভিবাসীকে "সঙ্গ দিতে" এসেছেন।
ঘটনাটি ঘটে হঠাৎ করেই। একজন অভিবাসী আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার পর এজেন্টরা তাকে আটকাতে এগিয়ে গেলে ল্যান্ডার তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং এজেন্টদের কাছে বিচারিক পরোয়ানা দেখতে চান। প্রায় ৪০ সেকেন্ড ধরে এজেন্টরা দু’জনকে আলাদা করার চেষ্টা করেন, এতে হলওয়েতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং সাংবাদিকরা মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন।
পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে গেলে এজেন্টরা ল্যান্ডারকে আলাদা করে হাতকড়া পরান। “আপনি বাধা দিচ্ছেন,”—বলেছিলেন এক এজেন্ট। ল্যান্ডার উত্তরে বলেন, “আমি বাধা দিচ্ছি না। আমি শুধু হলওয়েতে দাঁড়িয়ে আছি।”
পরবর্তীতে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন জানান, “আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার” অভিযোগে ল্যান্ডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জামিনে মুক্তির পর ল্যান্ডার তার স্ত্রীর হাত ধরে আদালত ভবন থেকে বের হন। তার সঙ্গে ছিলেন নিউইয়র্ক গভর্নর ক্যাথি হোচুল। বাইরে অপেক্ষমাণ জনতা তখন করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। সাংবাদিকদের ল্যান্ডার বলেন, “আমি শুধু তার (অভিবাসীর) বাহু ধরেছিলাম, আমি কোনো কর্মকর্তার ওপর হামলা করিনি।”
“আমি ঠিক আছি। শুধু একটা বোতাম খুলে গেছে,” মুচকি হেসে বলেন ল্যান্ডার। তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তিনি আবারও আদালতে যাবেন।
তিনি বলেন, “এখনই সময় উপস্থিত থাকার, প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার এবং মানুষকে সঙ্গ দেওয়ার।”
ল্যান্ডার জানান, যাকে তার বাহু থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার কোনো আইনজীবী নেই এবং সম্ভবত তাকে অভিবাসী বন্দিশিবিরে রাত কাটাতে হবে।
এই ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন দেশজুড়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আদালতের বাইরে ব্যাপক হারে অভিবাসী আটক অভিযানে নেমেছেন। বিচারকরা যখন কোনো অভিবাসী মামলার খারিজ আদেশ দেন, তখনই সেই ব্যক্তিকে ‘ত্বরিত প্রত্যাবাসন’-এর জন্য আটক করা হচ্ছে।
“তারা যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগই ছিনিয়ে নিচ্ছে,” সকালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন ল্যান্ডার।
ল্যান্ডারের এই গ্রেফতারের মাত্র এক মাস আগেই নিউ জার্সির নিউয়ার্ক শহরের মেয়র রাস বারাকা ফেডারেল অভিবাসন বন্দিশিবিরের বাইরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। পরে তার বিরুদ্ধে আনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ খারিজ করা হয়। একই ঘটনায় কংগ্রেস সদস্য লা’মনিকা ম্যাকাইভারকে ফেডারেল এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের সংবাদ সম্মেলন থেকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাদিলিয়াকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়, যখন তিনি ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন।
এদিকে, ল্যান্ডারের গ্রেফতার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরাও ক্ষোভ জানিয়েছেন। প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো বলেন, “ট্রাম্পের আইসিই বাহিনীর লাগামহীন গুন্ডামির এটি আরেকটি নজির। দেশের পরিবারগুলোর মনে এই বাহিনী কেমন ভয় ছড়ায়, তা কল্পনা করাই কঠিন।”
প্রগতিশীল প্রার্থী জোহরান মামদানি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ল্যান্ডারকে সমর্থন জানাতে। গভর্নর হোচুলও এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গ্রেফতারটিকে ‘ঘৃণ্য’ বলে নিন্দা জানান।
ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটনের দপ্তর জানায়, “যে কেউ ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দপ্তরের মুখপাত্র নিকোলাস বিআসে বলেন, “সরকারি কার্যক্রম, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।”
