বাফলোর ইস্ট সাইডে গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত

Media

যুক্তরাষ্ট্রের বাফলো শহরের ইস্ট সাইড এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছেন এক ব্যক্তি। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে অলিম্পিক অ্যাভিনিউতে এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৯টার কিছু আগে অলিম্পিক অ্যাভিনিউ ও আলমা অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা। সেখানে ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাফলো পুলিশ বিভাগ। কেউ যদি এই ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য জানে, তাহলে শহরের গোপন তথ্যসংগ্রহ নম্বর ৭১৬-৮৪৭-২২৫৫-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

 

বাফলোর অন্যতম বৃহৎ হোটেল বয়কটের আহ্বান জানাল ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের বাফলোর ডাউনটাউনে অবস্থিত হায়াত রিজেন্সি হোটেলের বর্তমান ও সাবেক শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে হোটেল বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরোধ চলছিল।

ফাউন্টেন প্লাজায় অবস্থিত ডগলাস জামাল মালিকানাধীন এই হোটেলে শ্রমিকরা গত বছর ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তারা অভিযোগ করেছেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন গঠনের বিরোধিতা করে ভয়ভীতি, হুমকি ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, ইউনিয়ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে অন্তত ১০ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই বরখাস্তের কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ড।

বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের একজন, লুক সিলস বলেন, “জামালের এখনো সুযোগ আছে সঠিক কাজটি করার—ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতায় আসা, বরখাস্ত শ্রমিকদের পুনর্বহাল করা এবং আলোচনার টেবিলে বসা। আমরা সত্যিই আশা করি, তিনি তা করবেন।”

শ্রমিকরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা হায়াত রিজেন্সি হোটেলের বুকিং বাতিল করেন এবং ভবিষ্যতেও সেখানে অবস্থান না করেন। তারা অতীতে হোটেলে সম্মেলন আয়োজনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকেও অনুরোধ করেছেন ভবিষ্যতে আর সেখানে কোনো অনুষ্ঠান না করার জন্য।

ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ব্রাদারহুড অব ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কার্স  ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ২০২৮ সালের সম্মেলনটি আর এই হোটেলে করবে না—যেখানে ২০২৪ সালে তাদের পূর্ববর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

গত আগস্টে আইনপ্রণেতা টাইশা সেন্ট জিন টার্ড অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ওপর নজরদারি চালাতে সিসিটিভি ব্যবহার করেছে, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করেছে, এমনকি ফ্লোরিডা থেকে প্রতিষ্ঠান এনে ইউনিয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

 

এ বছরের বসন্তে হোটেলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে এবং বরখাস্তের কয়েকটি ঘটনায় যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। পাশাপাশি, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে একটি “বাজার্গেনিং অর্ডার” জারি করে সংস্থাটি।

লুক সিলস বলেন, “হায়াত রিজেন্সিতে যা ঘটেছে, তা শ্রমিক অধিকারের জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। এটি পরিস্থিতির গুরুতরতা বোঝায়।”

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জন রিভেরা (ডেমোক্র্যাট) বলেন, “এভাবে আর কিছুই চলবে না। আমি নিশ্চিত, অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এখন এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

বয়কটের এই আহ্বানের মাধ্যমে বাফলোর হায়াত রিজেন্সি হোটেলে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।