সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি

Media

সৌদি আরবের সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মূল্য প্রায় ১৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই চুক্তিটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চুক্তির অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো হলো, লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, জেনারেল ডায়নামিক্সসহ একাধিক মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি।

চুক্তিতে যেসব অস্ত্র ও প্রযুক্তি থাকছে তা হলো, এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা।ৎ

এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র সংগ্রহ করবে, যা তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে চুক্তিতে লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনও এটি বিক্রির অনুমোদন দেয়নি।

পাশাপাশি সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা এআই, শক্তি, উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত হবে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে, বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানের কারণে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। এমনকি এটি আগামী কয়েক মাসে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।

রিয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার দেশের ‘গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ রয়েছে এবং সেই অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতেই আজ তারা বৈঠক করেছেন।তিনি বলেন, ‘যৌথ বিনিয়োগ আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ পিলার।’

যুবরাজ বলেছেন, তাদের যৌথ তৎপরতা শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এটি সম্প্রসারিত হবে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য।

এদিকে সৌদি আরবকে একটি ‘মহান জায়গা’ ও দেশটির মানুষকে ‘মহান মানুষ’ আখ্যায়িত করেন ও মোহাম্মেদ বিন সালমানকে একজন ‘অসাধারণ মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বক্তৃতায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র চুক্তির প্রসঙ্গও এসেছে। সালমানকে উদ্দেশ্যে করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন ‘আপনি দারুণ কিছু কাজ করেছেন। আজ আমাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ, শক্তিশালী ও যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিধর করতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’