মিশিগানে চার্চে বন্দুক হামলা ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ৪

Media

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক চার্চে রবিবার বন্দুকধারীর হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে গির্জার ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে উপস্থিত কয়েকশ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর সে ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার স্থান ছিল চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টস, যা ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থনার সময় হামলাটি সংঘটিত হয়।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারীর নাম থমাস জ্যাকব স্যানফোর্ড (বার্টন, মিশিগান)। তিনি গির্জার কার পার্কিং এলাকায় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন। পুলিশ প্রধান উইলিয়াম রেনেই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহত চারজনের মধ্যে দুজন গুলিতে আহত হয়ে মারা যান। গির্জায় আগুন লাগার ফলে ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং কিছু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী গাড়ি নিয়ে গির্জায় ঢুকে অ্যাসল্ট-স্টাইল রাইফেল ব্যবহার করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করে, গোলাগুলির মাত্র আট মিনিটের মধ্যে তাকে আটক করা হয়।

হামলার মোটিভ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা, এটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। তদন্তকারীরা হামলাকারীর বাড়ি তল্লাশি ও তার ফোন রেকর্ড পরীক্ষা করছেন। এফবিআই নেতৃত্বে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, বোমা বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মোতায়েন করা হয়েছে। মিশিগান রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের আরও কিছু জায়গায় বোমার হুমকির বিষয়ও তারা খতিয়ে দেখেছে এবং সেগুলো নিরাপদে পরিদর্শন ও ক্লিয়ার করা হয়েছে।

চার্চ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে,“প্রার্থনার সময় বন্দুকধারীর গুলি চালানোর ঘটনা সত্য। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা শান্তি এবং সবাইকে সুস্থতার কামনা করি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার বিষয়টি অবহিত হয়েছেন এবং এফবিআইকে নেতৃত্বে দিয়ে তদন্ত নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, “এটি আমেরিকায় খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা।”

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি হামলাকে “হৃদয়বিদারক” আখ্যায়িত করেছেন। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার বলেছেন, “সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে প্রার্থনাস্থলে হলে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

সাবেক মার্কিন সিনেটর ও সুপরিচিত মরমন রাজনীতিক মিট রমনি বলেন, “এটি একটি বড় ট্রাজেডি। আমার ভাই-বোনেরা এবং তাদের গির্জা সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।”

পুলিশ ও এফবিআই জানিয়েছে, হামলার তদন্ত এখনও চলমান। গির্জার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উদ্ধারকারীরা হতাহতদের জন্য কাজ চালাচ্ছেন। আক্রান্তদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালগুলো সতর্ক রয়েছে।

এ ধরনের হামলার ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায় এবং গোটা দেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।