ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কানাডার ওপর বাণিজ্যিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ওয়াও! কানাডা এখনই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন করছে। এটা আমাদের জন্য তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা খুব কঠিন করে তুলবে। ওহ্ কানাডা!!!”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে কানাডার ঘোষণার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর, যখন তার 'লিবারেশন ডে' নামে পরিচিত নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই নীতির আওতায় যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো বাণিজ্য চুক্তি হয়নি, তাদের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর কথা রয়েছে।
যদি ১ আগস্টের মধ্যে এসব দেশের সঙ্গে চুক্তি না হয়, তবে শুক্রবার থেকে কানাডার রপ্তানি পণ্যগুলো এই শুল্কের আওতায় পড়বে। এ অবস্থায় ট্রাম্পের বক্তব্য কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ফলে তাদের রপ্তানি পণ্যে নির্ধারিত শুল্ক কার্যকর হবে। তবে চীন ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে এখনো চুক্তি হয়নি।
এর আগে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যার ধারাবাহিকতায় কানাডার অবস্থান স্পষ্ট হলো।
এদিকে গাজায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। হামাস-চালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অপুষ্টির কারণে বুধবার আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, গাজায় বাস্তবেই মানুষ অনাহারে ভুগছে। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে “সবকিছু ঠিক করার” উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্রাজিলের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। একই দিনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেকজান্দ্রে দে মোরেসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই আটকের অনুমোদন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমন।
বিচারক মোরেস ২০২২ সালের নির্বাচনের পর দেশটিতে কথিত অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বলসোনারো এই অভিযোগ অস্বীকার করে মোরেসকে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মোরেসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর নতুন শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণ’ এবং বলসোনারোর ওপর ‘হয়রানিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। সেই চিঠিতেই ট্রাম্প উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
যদিও শুল্ক আদেশে কিছু পণ্য—যেমন কমলার রস, নির্দিষ্ট বিমানযন্ত্রাংশ ও জ্বালানি পণ্য—এই বাড়তি শুল্কের আওতা থেকে ছাড় পেয়েছে, তবে আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ব্রাজিলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দমন-পীড়ন, সেন্সরশিপ এবং বলসোনারোর বিচারের প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্রাজিল ইতিমধ্যেই পাল্টা হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলে তারা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
উল্লেখ্য, চীনের পর যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ফলে এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ব্রাজিলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
