বাল্টিমোরে সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের, গভর্নর মুরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চরমে

Media

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ‘অপরাধ দমন’ অভিযানের অংশ হিসেবে ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন। এই মন্তব্যের ফলে ট্রাম্প ও ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুরের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যদি ওয়েস মুরের সহায়তা প্রয়োজন হয়, ঠিক যেমন লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্যাভিন নিউসমের হয়েছিল, তাহলে আমি ‘সেনা’ পাঠাবো—যেভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতে সেনা পাঠানো হয়েছে, এবং দ্রুত অপরাধ দমন করব।”

এই মন্তব্য সামনে আসার কিছুদিন আগেই গভর্নর মুর ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ‘সেফটি ওয়াক’ বা নিরাপত্তা পদযাত্রায় অংশ নিতে। ট্রাম্প সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে একে “উসকানিমূলক” ও “জঘন্য” বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের এই হুমকিকে “অজ্ঞতাপূর্ণ” বলে কড়া সমালোচনা করেছেন গভর্নর মুর। তিনি বলেন, “তারা আমাদের রাস্তায় হাঁটেনি, আমাদের মানুষের সঙ্গে থাকেনি। ফলে তারা আমাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়ে নিজেরা আনন্দ পাচ্ছে।”

এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে সেনা মোতায়েনের পর কয়েকশ’ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শহরটি এখন “সম্পূর্ণ নিরাপদ।” ট্রাম্প বলেন, “ওয়াশিংটন একসময় ছিল একটি নরক, এখন সেটা নিরাপদ।”

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের হার গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সহিংস অপরাধ ২৬ শতাংশ এবং ছিনতাই-ডাকাতি ২৮ শতাংশ কমেছে।

তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিউইয়র্ক ও শিকাগোতেও সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার একে “ক্ষমতার অপব্যবহার” বলে উল্লেখ করেছেন, আর হাউসের ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ বলেন, “বাল্টিমোর বা শিকাগোতে সেনা মোতায়েনের কোনো আইনগত বৈধতা নেই।”

বাল্টিমোরে চলতি বছর গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান জেফ্রিজ। তার অভিযোগ, বাস্তবে অপরাধ কমলেও ট্রাম্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরির চেষ্টা করছেন।

এক জরিপে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসিন্দা সেনা মোতায়েন ও অতিরিক্ত পুলিশি কড়াকড়ির বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।