যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ায় ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থা বা শাটডাউন শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দুই দিনের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই হতে পারেন।
সাত বছরের মধ্যে এটাই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন পরিস্থিতি তৈরি হলো। তবে এই সংকট সমাধানে আপস করার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এমনকি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বন্ধের জন্য আনা প্রস্তাবও ব্যর্থ হয়।
এর ফলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে, যার ক্ষতি হবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের।
বুধবার এক ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন। ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ডেমোক্রেটরা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “আমেরিকান জনগণকে জিম্মি করা উচিত নয়। বরং সরকারকে সচল রাখতে তাদের উদ্যোগী হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেন, রিপাবলিকানরা ডেমোক্রেটদের স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থায়ন পরিকল্পনা মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করছে। ডেমোক্রেটরা চান, স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো ব্যয়চুক্তি হবে না। রিপাবলিকানরা আবার অস্থায়ী অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে, যা চলবে নভেম্বর পর্যন্ত।
এদিকে কংগ্রেসের দুই কক্ষই নিয়ন্ত্রণ করলেও অর্থায়ন বিল পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না থাকায় রিপাবলিকানরা বলেছে, স্বাস্থ্যসেবার সুবিধাগুলো এখন তাদের অগ্রাধিকার নয়; সরকারের কার্যক্রম চালু রাখাই আসল বিষয়।
শাটডাউনের ফলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। সীমান্ত রক্ষী ও সেনাদের মতো অপরিহার্য কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, আর অনেক ফেডারেল কর্মীকে বিনা বেতনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী বা সাড়ে সাত লাখ মানুষ সাময়িকভাবে কাজ হারাতে পারেন।
বুধবারের বৈঠকে ভ্যান্স বলেন, “যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে বাস্তবেই আমাদের ছাঁটাই করতে হবে।”
রিপাবলিকানরা অভিযোগ করছে, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বাড়ানোর দাবি থেকেই ডেমোক্রেটরা এ সংকট তৈরি করেছে। যদিও ডেমোক্রেটরা বারবার এ দাবি অস্বীকার করেছে।
এদিকে হাউজ স্পিকার মাইক জনসন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত স্বল্পমেয়াদী অর্থায়ন বিলের ওপর আরেক দফা ভোট হবে।
