জিম্মি মুক্তি ও গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাস-ইসরায়েল আলোচনায় অগ্রগতি

Media

সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে হামাস। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার কয়েকটি বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে সংগঠনটি।

ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে গাজায় সামরিক তৎপরতা সীমিত রাখা হয় কেবল প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের মধ্যে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাদের গাজা সিটি দখলের অভিযান থামাতে নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেছিলেন, হামাসকে “শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, নয়তো নরকের মুখোমুখি হতে হবে।”

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তার বিশ্বাস হামাস শান্তির পথে অগ্রসর হতে চায়। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান গাজায় বোমা বর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে। হামাস এ মন্তব্যকে স্বাগত জানায়। সংগঠনের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, তারা বন্দি বিনিময়, যুদ্ধ অবসান ও সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত।

এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প আরও বলেন, “এটা শুধু গাজার ব্যাপার নয়, এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির বিষয়।” তিনি তার পরিকল্পনায় মধ্যস্থতায় সহায়তার জন্য কাতার, মিশর ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান।

ইসরায়েলের অবস্থান

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ইসরায়েল অবিলম্বে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতভর সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান। বৈঠকে ট্রাম্প পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ কার্যকরের জন্য আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাদের নিরাপত্তাই ‘শীর্ষ অগ্রাধিকার’। এ জন্য দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের সব সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে, যা গাজা উপত্যকার সামরিক অভিযান তদারকি করে। যদিও গাজায় সামরিক তৎপরতা হ্রাসের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি, তবে সেনারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে বলে জানানো হয়।

ট্রাম্প পরিকল্পনার ধাপসমূহ

ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন তিনটি প্রধান ধাপ:

প্রথম ধাপ – গাজা হবে উগ্রপন্থি সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য আর হুমকি থাকবে না।

দ্বিতীয় ধাপ – যুদ্ধ বন্ধের পর গাজার পুনর্গঠন।

তৃতীয় ধাপ – ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সব শত্রুতা বন্ধ এবং বন্দি বিনিময়। এ পর্যায়ে হামাস জীবিত ও মৃত সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, আর ইসরায়েল মুক্তি দেবে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে।

ট্রাম্প তার সর্বশেষ বার্তায় বিশেষভাবে তৃতীয় ধাপের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমা বর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যাতে জিম্মিদের নিরাপদে দ্রুত বের করে আনা যায়।”

আলোচনা শুরু

কাতার ইতিমধ্যেই হামাসের বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মিশরের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য আলোচনায় সমন্বয় করছে।

সব মিলিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে এই নতুন অবস্থান গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।