লস অ্যাঞ্জেলেসে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চাপায় আহত ৩০

Media

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে জনাকীর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এলএফডি)।

এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে শহরের ইস্ট হলিউড এলাকার সান্তা মনিকা বুলেভার্ডে। এলএফডি জানায়, ঘটনাটি ঘটে যখন একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ‘টাকো ট্রাক’—যা একটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের গাড়ি—এ ধাক্কা মারে। এরপর সেটি পাশেই অবস্থিত একটি নৈশ ক্লাবের বাইরে অপেক্ষমাণ লোকজনের ওপর উঠে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার আগে ওই এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। মারিয়া মেদ্রানো নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে হট ডগ বিক্রি করছিলেন, জানান—মারামারির কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করে গাড়িটি জনতার মধ্যে ঢুকে পড়ে। কিছু সময়ের মধ্যেই গুলির শব্দ শোনা যায় এবং লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

এলএপিডি (লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ) জানায়, ঘটনাস্থলে থাকা একজন ব্যক্তি গাড়িচালককে গুলি করেন। তবে ওই ব্যক্তি কে এবং কী উদ্দেশ্যে গুলি চালান, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও, তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে এলএপিডির কর্মকর্তা লিলিয়ান কারানজা জানান, ‘আমরা সন্দেহভাজন চালকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করছি। তাকে সহজে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না।’

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পূর্বপরিকল্পিত হামলা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এলএফডির জনসংযোগ কর্মকর্তা অ্যাডাম ভ্যান গার্পেন বলেছেন, ‘এটি একটি গুরুতর ঘটনা। বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’

আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী, যারা নৈশ ক্লাবের বাইরে সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। উদ্ধার তৎপরতার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছায় এবং দ্রুত আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর সন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে, যিনি চালককে গুলি করার পর পালিয়ে গেছেন।

এই ঘটনাটি শহরে জননিরাপত্তা ও নৈশ জীবন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।